আর্জেন্টিনা দল২০০২-এ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2022) জয়। চার বছর পরেও সেই লিওনেল মেসির (Lionel Messi) হাতেই আর্জেন্টিনার (Argentina) ক্যাপ্টেন আর্মব্যান্ড। এবারের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপে আবার সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামছেন তারকা ফুটবলার। গত এক দশকেরও বেশি সময় যে ফুটবলারের জাদুতে মোহিত হয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্ব। এটাই হয়ত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। বুটজোড়া তুলে রাখার আগে শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসন হারাতে চাইবেন না মেসি। আর তাই নিজের দলকে পিছিয়ে রেখে চাপ কমাতে চান।
বিশ্বকাপ ফুটবল বলে কথা। প্রত্যাশার চাপ যেমন আছে, তেমন আছে চোট আঘাত এড়িয়ে নিজেদের কাজটা প্রত্যেক ম্যাচে ৯০ মিনিট ধারাবাহিকভাবে করে যাওয়াও কম চাপের নয়। আসুন দেখে নেওয়া যাক, আর্জেন্টিনা দলের শক্তি কোথায়, আর দুর্বলতাই বা কোথায়?
আর্জেন্টিনা দলের শক্তি
আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হতে পারে তাদের দাপুটে আক্রমণভাগ। দলটির ডাগআউটে এখন আর কেবল একজন মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভরসা করে বসে থাকার দিন নেই। দলে আছেন জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজের মতো বিশ্বমঞ্চে প্রমাণিত দুই গোলমেশিন। এই দুই স্ট্রাইকার যে কোনও রক্ষণভাগ ভেঙে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। শুধু মূল একাদশই নয়, স্কালোনির ডাগআউটে এবার তরুণ রক্তের অভাব নেই। ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে বেঞ্চ থেকে 'এক্স-ফ্যাক্টর' হিসেবে নামতে পারেন নিকো পাজ এবং ভ্যালেন্টিন বারকোর মতো প্রতিভাবান তরুণরা।
আর্জেন্টিনা দলের দুর্বলতা
তবে এই শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দলেরও কিছু বড় দুর্বলতা বা চিন্তার কারণ রয়েছে, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্কালোনিকে রাতে ঘুমাতে দেবে না। আলবিসেলেস্তেদের মূল মাথাব্যাথার কারণ এখন তাদের রক্ষণভাগ বা ডিফেন্স। দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর চোটের সমস্যা রক্ষণভাগকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। রোমেরোর ইনজুরির পর তার জায়গায় সেন্ট্রাল ব্যাক পজিশনে কে খেলবেন—তা নিয়ে এখনো বড় রকমের সংশয় রয়ে গেছে। দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছেন দলের নিয়মিত লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিঁও-র হয়ে মৌসুমের শেষভাগটা বড্ড বাজে কেটেছে এই ডিফেন্ডারের। ফর্মহীনতা আর রক্ষণের এই ফাঁকফোকর বড় কোনো ম্যাচে আর্জেন্টিনার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমনকি গোলপোস্টের নিচে যার ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখা হয়, সেই ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে নিয়েও এবার কিছুটা উদ্বেগ আছে। গত কয়েক মরসুমে ক্লাব ফুটবলে খেলায় মাঝে মাঝেই এক ধরণের অমনোযোগিতা বা ছোটখাটো ভুল লক্ষ্য করা গেছে। নকআউট পর্বের একটি ছোট ভুলও যেখানে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিতে পারে, সেখানে মার্টিনেজের এই ফর্মের ওঠানামা কিছুটা হলেও ভাবাচ্ছে আর্জেন্টাইন ভক্তদের।