এমবাপে, হাল্যান্ড যেমন রক্ষণভাগ, তেমন আক্রমণ, আর ততটাই নিঁখুত ফিনিশ। এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সুইডেনের বিরুদ্ধে যেন কমপ্লিট ফুটবল খেলা দেখালেন এমবাপেরা। পাওয়ার ফুটবলের সঙ্গে সঙ্গেই ছিল শৈল্পিক নিপুণতা। আর তাই সুইডেনকে অনায়াসেই হারিয়ে শেষ ১৬-তে পৌঁছে গেল ফ্রান্স। অন্যদিকে, টানটান উত্তেজনা শেষে, হালান্ডের গোলে খেলা শেষের মুখে বাজিমাত করল নরওয়ে। আইভরি কোস্টের লড়াই বৃথা হল। এবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শেষ ১৬-তে খেলবে নরওয়ে।
ফ্রান্স বনাম সুইডেন
ফ্রান্সের নিখুঁত ফুটবলের সামনে শুরু থেকেই দাঁড়াতে পারেনি সুইডেন। একদিকে যেমন জোড়া গোল করে গোল্ডেন বুটের সবচেয়ে বড় দাবিদার মেসিকে তাড়া করলেন এমবাপে। তেমনই সুইডেনের বিরুদ্ধে কমপ্লিট ফুটবল খেলে তাক লাগিয়ে গিলেন ওলিস। নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পাননি তিনি। যান্ত্রিক মনে হলেও রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ, ৩ বিভাগেই পাওয়ার ফুটবল উপহার দিয়েছে দিদিয়ের দেঁশের ফ্রান্স।
২০ মিনিটে অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় এমবাপের গোল। ৩২ মিনিটে ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে দুরন্ত শট মেরেছিলেন এমবাপে। পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। ৩৬ মিনিটে ওলিসের বাইসাইকেল কিকও পোস্টে ফেরে। এর ১ মিনিট পরেই উসমান ডেম্বেলের শট বাইরে চলে যায়। ৪৫ মিনিটে বক্সে ২ সুইডিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সুন্দর ফিনিশ করেন এমবাপে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেই এমবাপে। আর তার সঙ্গে বিশ্বকাপে ১৮ গোল করার রেকর্ডও করে ফেলেন তিনি। নিজেদের সাধ্যমতো ফুটবল খেলেও শক্তিশালী ফ্রান্সের সঙ্গে পেরে উঠল না সুইডেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন এমবাপেরা। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ জার্মানিকে ছিটকে দেওয়া প্যারাগুয়ে।
নরওয়ে বনাম আইভরি কোস্ট
২-১ গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে পৌঁছে গিয়েছে নরওয়েও। ২৮ বছর পর তারা বিশ্বকাপে ফিরেছে। আর ফিরেই ইতিহাস তৈরি করল মার্টিন ওডেগার্ডের দল। শুরু থেকেই এদিন আক্রমণাত্মক ছিলেন আর্লিং হাল্যান্ড। তৃতীয় মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করেন। ২২ মিনিটে লেফট-ব্যাক কোনানের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান আন্তোনিও নুসা। ৩ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ফের আসে হাল্যান্ডের কাছে। কিন্তু হেড থেকে বল পেয়েও গোল করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। ৫৬ মিনিটে টানা দু'টি দুর্দান্ত সেভ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ড। ৬৬ মিনিটে নিশ্চিত গোল গোললাইন থেকে গোল বেঁচে যায়। ৭৪ মিনিটে আমাদ দিওলো ম্যাচে সমতা ফেরান। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার।
তবে শেষ হাসি হাসেন হ্যালান্ডরাই। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে বলে যখন সকলে ভেবে নিয়েছিল, তখনই ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে সেই হাল্যান্ডের পা থেকেই। ফাঁকা পোস্টে আলতো ছোঁয়ায় জালে বল জড়ান ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার। ২-১ ব্যবধানে জিতে এবার তাঁরা মুখোমুখি হবেন ব্রাজিলের।