এমবাপে লিও মেসি বিশ্বরেকর্ড করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিলিয়ান এমবাপে বুঝিয়ে দিলেন, কেন তিনি সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। মেসি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৮ গোল। খুব একটা পিছিয়ে নেই এমবাপেও। তাঁর বিশ্বকাপের গোল সংখ্যা ১৬।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জ্বলে উঠল ফ্রান্স
সোমবার মধ্যরাতে (ভারতীয় সময়) প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে খেলা বন্ধ থাকার পরও ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। ২০২২ সালের রানার আপ এই টিম পৌঁছে গেল ছাব্বিশের রাউন্ড অফ ৩২-তে। লিঙ্কন ফিন্যান্সিয়ালের মাঠে ঝড়বৃষ্টির জন্য ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট বন্ধ ছিল ম্যাচ। দর্শকদের দেখা গিয়েছে বৃষ্টিতে আশ্রয় খুঁজতে।
১৪ মিনিটের মাথায় ইরাকের গোলে প্রথম বল জড়িয়ে দেন এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর পা থেকে আসে আরও একটি অনবদ্য গোল। এরপর ৬৬ মিনিটের মাথায় তাঁর সতীর্থ ওউসমান ডেম্বেলে আরও একটি গোল করেন।
সাধারণত ফুটবল ম্যাচে এভাবে আবহাওয়ার কারণে ভেস্তে গিয়েছে, খুব একটা দেখা যায় না। ক্রিকেটে প্রায়শই বৃষ্টির জেরে ম্যাচ বাতিল হতে দেখা যায়। তবে এদিন বিশ্বকাপ ম্যাচের আগেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের ওয়ার্নিং ছিল। ম্যাচের মাঝে যে কোনও মুহূর্তে বজ্রপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস ছিল।
ম্যাচ শুরুর আগেও দীর্ঘক্ষণ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি ফ্যানেদের। এরপর আবহাওয়া কিছুটা পরিষ্কার হতে খেলা পুনরায় চালু হয়। তবে ঝড় ওঠে সবুজ গালিচায়। ইরাককে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়ে নকআউটে পৌঁছে গেল ফ্রান্স।
প্রথম থেকেই চনমনে ফ্রান্স
দুই টিমই এদিন দলে ৩টি করে পরিবর্তন এনেছিল লাইনআপে। তবে ফ্রান্স যতটা উজ্জীবিত ছিল, ইরাককে ততটা চনমনে দেখায়নি মাঠে। ম্যাচের শুরুতেই গতি নিয়েছিল ফ্রান্স। ২ মিনিটের মাথাতেই এমবাপেকে পাস বাড়িয়েছিলেন মানে কোনে। ইরাক যতই আটকানোর চেষ্টা করুক না কেন, এমবাপে ঠিক ফাঁক খুঁজে নিচ্ছিলেন।
সেনেগাল ম্যাচের মতো এবারও ফ্রান্সের অধিনায়ক আউটসাইড বক্স থেকে জালে বল জড়াতে ভুল করেননি। এর ফলে রোনাল্ড নাজারিওর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
স্টার স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেইন না থাকায় ইরাক কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। পাশাপাশি একের পর এক ফ্রান্স অ্যাক্রমণ তাদের কাজ আরও কষ্টসাধ্য করে তুলেছিল।
বজ্রপাতের অ্যালার্ট
এরপরই ফিলাডেলফিয়াতে বৃষ্টি শুরু হয়। এমবাপে তখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দ্বিতীয় গোলটির জন্য। শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
বজ্রপাতের অ্যালার্ট থাকায় দর্শকদের আশ্রয় নিতে বলা হয় স্টেডিয়াম থেকে। আধ ঘণ্টার জন্য অ্যালার্ট জারি থাকলেও বৃষ্টি থামার নাম নিচ্ছিল না। একটা সময়ে খেলা কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
দর্শকে ঠাসা ছিল গ্যালারি, কোনওমতেই খেলা বাতিলের পক্ষপাতি ছিল না FIFA। একই ভাবে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপে চেলসি বনাম ডর্টমুন্ডের ম্যাচটিও সাড়ে ৪ ঘণ্টা আটকে গিয়েছিল।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা থমকে থাকার পর ফ্রান্স আরও চনমনে হয়ে নামে মাঠে। ইরাকের খেলোয়াড়রা ছন্দ হারিয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ পকেটে পুড়ল ফ্রান্স
নরওয়ে ম্যাচে ব্লান্ডার করার পর জালাল হাসানকে সরিয়ে আহমেদ বাসিলকে গোলকিপিংয়ে নিয়ে আসে ইরাক। তাঁকে একটাই নির্দেশ দেওয়া ছিল, 'কোনও ভুল নয়।' তবে মনে হয়েছে, বৃষ্টির জেরে ম্যাচ থমকে থাকার সময়ে তিনি এ কথা ভুলে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটের মাথায় তাই অনায়াসেই গোল করতে পারেন এমবাপে। ইরাকের ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিন এবং গোলকিপার আহমেদ বাসিলের মধ্যে ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেয় ফ্রান্স। এরপর ৬৬ মিনিটে জোরালো শটে গোল করেন ডেম্বেলে।
নকআউটে এমবাপেরা
দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত হলো ইরাকের।