পাকিস্তানে SAF GAMES, ভারত কি খেলতে যাবে? সিদ্ধান্ত জানাল বিদেশ মন্ত্রক

২০২৭ সালের সাফ গেমসে এই নীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ এর আগে বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান অংশ নিলেও এবার পাকিস্তানই প্রতিযোগিতার আয়োজক দেশ।

Advertisement
পাকিস্তানে SAF GAMES, ভারত কি খেলতে যাবে? সিদ্ধান্ত জানাল বিদেশ মন্ত্রকছবি : রয়টার্স
হাইলাইটস
  • ২০২৭ সালের সাফ গেমস হবে পাকিস্তানে
  • আগামী বছর ৩ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই আঞ্চলিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজিত হতে চলেছে ২০২৭ সালের সাউথ অশিয়ান ফেডারেশন গেমস বা (SAF Games)। এই প্রতিযোগিতায় ভারত অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। সেই আবহেই মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিল, পাকিস্তানে আয়োজিত এই বহুদেশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নীতি মেনেই।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বা বহুপাক্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি ক্রীড়া মন্ত্রকের ঘোষিত সাম্প্রতিক নীতির ভিত্তিতেই ঠিক করা হয়। তবে সাফ গেমসে ভারতীয় দল যাবে কি না, সেই বিষয়ে মঙ্গলবার কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি বিদেশ মন্ত্রক।

কী বলল বিদেশ মন্ত্রক?

সাংবাদিক বৈঠকে রণধীর জয়সওয়ালকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বা বহুপাক্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অংশগ্রহণ ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের সম্প্রতি ঘোষিত নীতির দ্বারা পরিচালিত হয়। জয়সওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নীতি প্রকাশ্যেই রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির নির্দেশিকা এবং ভারতীয় খেলোয়াড়দের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হয়। অর্থাৎ, পাকিস্তান আয়োজক দেশ হওয়ায় সাফ গেমস নিয়ে আলাদা করে কোনও সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানায়নি বিদেশ মন্ত্রক। বরং গোটা বিষয়টি কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতির আওতায় দেখার কথা জানিয়েছে।

পাকিস্তানে কবে সাফ গেমস?

২০২৭ সালের সাফ গেমস হবে পাকিস্তানে। আগামী বছর ৩ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই আঞ্চলিক বহুদেশীয়-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার আয়োজক শহর হিসেবে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, ইসলামাবাদ, লাহোর এবং পেশোয়ার। Olympics-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে South Asia Olympic Council (SAOC) প্রতিযোগিতার তারিখ ও ভেন্যু অনুমোদন করেছে।

কেন ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন?

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে পড়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।

Advertisement

সম্প্রতি ক্রীড়া মন্ত্রক ফের জানিয়ে দিয়েছে, ভারত পাকিস্তানে কোনও দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। একইভাবে পাকিস্তানি দল বা খেলোয়াড়দের ভারতেও দ্বিপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। ক্রীড়া মন্ত্রকের নীতি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা বহুপাক্ষিক বা আন্তর্জাতিক বহু-দেশীয় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

পাকিস্তানের সঙ্গে কোন ক্ষেত্রে খেলবে ভারত?

কেন্দ্রের সাম্প্রতিক নীতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এবং বহুপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির নিয়মকানুন এবং ভারতীয় খেলোয়াড়দের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে। অর্থাৎ, কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের দল বা খেলোয়াড় থাকলেও ভারত সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতাটি ভারত বা বিদেশ, যেখানেই আয়োজিত হোক না কেন, এই নীতি প্রযোজ্য। একইভাবে, ভারতে কোনও বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হলে সেখানে পাকিস্তানের খেলোয়াড় বা দল অংশ নিতে পারবে।


পহেলগাঁও হামলার পরেও বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ

ভারতের এই অবস্থান নতুন নয়। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের সময়ও কেন্দ্র স্পষ্ট করেছিল যে, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্কের বিরোধিতা বজায় থাকবে। কিন্তু বহু-দেশীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান থাকলে ভারত অংশ নেওয়া চালিয়ে যাবে।

সেই সময় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আয়োজিত ক্রিকেটের এশিয়া কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেয় ভারত। তার মধ্যেই এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্রীড়া মন্ত্রক জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। তবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত অংশ নেবে।

সাফ গেমসে বড় পরীক্ষা?

২০২৭ সালের সাফ গেমসে এই নীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ এর আগে বহুপাক্ষিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান অংশ নিলেও এবার পাকিস্তানই প্রতিযোগিতার আয়োজক দেশ। সেই কারণে প্রশ্ন উঠছে- পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না। বিদেশ মন্ত্রকের মঙ্গলবারের বক্তব্যে অবশ্য সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর মেলেনি। ভারতীয় দল যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রীড়া মন্ত্রকের নীতি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির নির্দেশ এবং ভারতীয় খেলোয়াড়দের স্বার্থ-সবকিছুকেই বিবেচনায় রাখা হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনেও জোর ভারতের

কেন্দ্রের নীতিতে আরও একটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। এই কারণে বিদেশি খেলোয়াড়, টেকনিক্যাল স্টাফ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আধিকারিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও বলা হয়েছে।এর সঙ্গে ভারতের প্রস্তাবিত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক্স আয়োজনের প্রচেষ্টার বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement