ভারতে বিনোদনের সঙ্গে কোথাও একটা যোগসূত্র পাওয়া যায় খেলাধুলোর। বিশেষ করে ক্রিকেটের! কারণ দুটি জায়গাই যে এখন গ্ল্যামারের অন্যতম মাপকাঠি হয়ে উঠেছে দেশে। অতীতে কিছু বছর আগেও ব্যাপারটা ছিল অনেকটা এমনটাই। যেমন বিনোদন জগতের হিরো-হিরোইনদের দেখে মানুষ নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারতেন না, ঠিক তেমনই সেলিব্রিটির ভূমিকা পালন করতেন ও করেন ক্রিকেটাররাও।
আজ ১৩ জুলাই ২০২১, প্রয়াত হয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য যশপাল শর্মা। আর ঠিক ৬ দিন আগে প্রয়াত হয়েছেন অন্যতম বলিউড মেগাস্টার অভিনেতা দিলীপ কুমার। ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন এই দুই কিংবদন্তি। তবে হঠাৎ কেন এই দুজন! একজন বলিউড অন্যজন তো ক্রিকেট দুনিয়ার। তবে এই দুজনের বাঁধা পড়েছিলেন একটি সূত্রে। আর সেই দিলীপ কুমার নিয়ে নিজেই জানিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের এই প্রাক্তন কিংবদন্তি। কারণ যশপালের ক্রিকেট কেরিয়ারে নাকি অনেকটাই তাঁকে এগিয়ে দিয়েছিলেন দিলীপ কুমার।
দিলীপ কুমারকে ইউসুফ ভাই হিসাবে ডাকতেন যশপাল। তিনি বলেছিলেন, 'ইউসুফ ভাই, আমার জীবন বদলে দিয়েছিলেন।' সেটাও ছিল একটা অন্য ধরনের একটা ঘটনা। ১৯৭৪-৭৫ মরশুমের রনজি ট্রফির একটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাঞ্জাব বনাম উত্তর প্রদেশ। ম্যাচ চলাকালীন মাঠে খেলা দেখতে এসেছিলেন দিলীপ কুমার। সেই ম্যাচে ৮৩-র বিশ্বকাপের অন্যতম ব্যাটসম্যান যশপাল শর্মার ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বলিউডের বিখ্যাত নায়ক। প্রথমে রাজনৈতিক নেতা ভেবেছিলেন। তবে অবশেষে অভিনেতা দিলীপ কুমারকে চিন্তে পারেন তিনি। সাক্ষাৎ হয়ে দুজনেরই।
তখনই দিলীপ কুমার তাঁকে একজনকে তাঁর কথা বলার কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন এই ক্রিকেটারকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্টরাজ সিং দুঙ্গারপুরকে দিলীপ কুমার যশপালের কথা বলেছিলেন। আর তারপরই দ্রুত ভারতীয় দলের ড্রেসিং রুমে ঢুকে পড়েন যশপাল। এই প্রতিভাশালী ক্রিকেটারকে ব্যাকআপ দিয়েছিলেন প্রয়াত দিলীপ কুমার। পরে দুঙ্গারপুর দিলীপ কুমারের কথা জানান যশপালকেও।
এভাবেই ভারতীয় দলের ক্রাইসিস ম্যান হয়ে ওঠেন যশপাল। গড়েন একের পর এক নজির। একই সঙ্গে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পিছনে বড় হাত ছিল তাঁর।