মেসি ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করে এবারের বিশ্বকাপের জার্নি শুরু করলেন লিও মেসি। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩টি গোল করার পর মেসিল চোখে ছিল জল। কেন মাঠে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি? ম্যাচ শেষে সে কথা নিয়েই জানিয়েছেন ফুটবলের যুবরাজ।
বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ জে-এর এই ম্যাচ মনোগ্রাহী করে তোলেন বিশ্বকাপজয়ী LM10। তাঁর বাঁ পা থেকে এক এক করে ৩টি গোল যেন কানকাসের মাঠে শিল্প তৈরি করল। হ্যাটট্রিকের পর কিছুটা ইমোশনাল হয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে মেসিকে। চোখ ছলছল করছিল তাঁর। জার্মান ফুটবলার মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ড ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোল করার জন্যই কি এই চোখের জল?
৩৮ বছরের এই চ্যাম্পিয়ন অবশ্য জানালেন, ফুটবলের বাইরে তাঁর জীবনের নানা কঠিন লড়াইকে স্মরণ করতে গিয়েই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
মেসি এদিন ম্যাচ শেষে বলেন, 'ফুটবলের জন্য চোখ থেকে জল বেরোয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় চলছে। জটিল এবং টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল জীবনে। এর সঙ্গে খেলার কোনও সম্পর্ক নেই।'
তবে কী এমন কঠিন পরিস্থিতি তাঁর জীবনে তৈরি হয়েছিল, তা খোলসা করতে চাননি বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসি। ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থদের। কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর সাথীরা এবং জাতীয় দলের কর্মীরা যে ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তার জন্য মেসি আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানান।
মেসি এদিন আরও বলেন, 'আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ, আমার সতীর্থদের অনেক ধন্যবাদ। ওঁরা সর্বক্ষণ চেষ্টা করে গিয়েছে, যাতে আমি ভাল থাকি।'
আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০ তম ম্যাচ খেললেন মেসি। এটি তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করে ফেললেন। ছুঁয়ে ফেললেন মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। তিনি বলেন, 'আমি অত্যন্ত খুশি, যা যা আমার জীবনে এসেছে, আমি সাফল্য পেয়েছি। এবারের বিশ্বকাপটা আমার কাছে কেকের উপর চেরি। এই টিমে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। বিশ্বকাপ খুব উপভোগ করছি।'
আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসি সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, 'লিও সম্পর্কে কী বলব, শব্দ হারাচ্ছি আমি। ও অনবদ্য।'
মেসি সম্পর্কে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসসা মান্ডি বলেন, 'ওদের একজন ফুটবলার আছে, যে ক্ষমা করতে জানে না। ফলত সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। ওঁ সম্ভবত সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। ওঁর দক্ষতা অসাধারণ। আমরা সেটা জানতাম। যতটা পেরেছি ওঁকে আটকানোর চেষ্টা করেছি। তবে সম্ভব হয়নি।'