মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদে হুমায়ুন কবীর (ফাইল ফটো) বিপাকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সদ্য নির্বাচিত হওয়া প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবীর ক্লাবকে যে দেড় কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন, সেটি বাউন্স করে গিয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির এই বিধায়ক সম্প্রতি কলকাতার এই ফুটবল ক্লাবের দায়িত্বে এসেছিলেন। তারপরই ৩টি চেক দিয়েছিলেন ক্লাবের নামে। প্রতিটি চেকের মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। যথাক্রমে ১৭ জুলাই, ২০ জুলাই এবং ৩০ জুলাই তারিখ বসানো ছিল চেকগুলিতে। মহামেডান ক্লাব সূত্রে খবর, ৩টি চেকই পরপর বাউন্স করেছে।
জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর হুমায়ুন কবীর গত ১৫ জুনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ৩০ জুলাইয়ে এসে দেখা গেল সব চেকই বাউন্স। যে তারিখে উনি চেক ফেলতে বলেছিলেন, সেই দিনেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা জমা করেছিল বলে খবর। কিন্তু ব্যাঙ্ক মারফত খবর মেলে, হুমায়ুন কবীরের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স নেই। এদিকে, ১ অগাস্টের মধ্যে সমস্ত খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন দিতে হবে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। যা প্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এই টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে চরম আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ।
হুমায়ুন কবীরের দেওয়া অনুদানের চেক বাউন্সের জেরে নতুন করে আর্থিক সঙ্কটে পড়ে গেল কালো-সাদা শিবির। FIFA-র তরফে ট্রান্সফার ব্যানের জেরে এমনিতেই চাপে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাদিরির বকেয়া এখনও মেটাতে পারেনি তারা। ফলে সাসপেনশনের খাঁড়া মাথায় নিয়েই সেই বকেয়া মেটাতে উদ্যোগ নিয়েছিল ক্লাব কর্তারা। ক্লাবকে নির্বাসনের কাঁটা থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা করেন তারা।
এর মধ্যেই মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এল হুমায়ুন কবীরের এই চেক বাউন্স। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের আর্থিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হল নতুন করে। বিকল্প কোনও ভাবে ফান্ডের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন ক্লাব কর্তারা।
যদিও এই অচলাবস্থার মধ্যেই জয় দিয়ে নিজেদের ডুরান্ড কাপ যাত্রা শুরু করেছে মেহরাজউদ্দিনের টিম। বারাণসীর দল বাঘপত এফসিকে ৪-০ হারিয়ে দিয়েছে ফারদিন মোল্লারা। সামনে ম্যাচ রয়েছে সমলেশ্বরী এসসি এবং আর্মি রেডের বিরুদ্ধে। কিন্তু আর্থিক অচলাবস্থা না মিটলে ISL-এর মতো খারাপ সময়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর্থকরা।