মোহনবাগানের হকি সচিবকে বেধড়ক মার, BJP-র রিতেশের সঙ্গে ছবি আরেক কর্তার

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতা ময়দানেও। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা যেমন কিছু ক্ষেত্রে হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন, তেমন ভাবেই ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনকে। আবার খেলার জন্য বরাদ্দ মাঠ দখল করার অভিযোগেও সরব হয়েছেন উত্তর দমদমের নবনির্বাচিত বিধায়ক সৌরভ শিকদার। 

Advertisement
মোহনবাগানের হকি সচিবকে বেধড়ক মার, BJP-র রিতেশের সঙ্গে ছবি আরেক কর্তারমার খেয়েছেন শ্যামল মিত্র, পপ রায়ের সঙ্গে রিতেশ তিওয়ারি

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতা ময়দানেও। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা যেমন কিছু ক্ষেত্রে হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন, তেমন ভাবেই ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজনকে। আবার খেলার জন্য বরাদ্দ মাঠ দখল করার অভিযোগেও সরব হয়েছেন উত্তর দমদমের নবনির্বাচিত বিধায়ক সৌরভ শিকদার। 

মার খেয়েছেন মোহনবাগানের হকি সচিব
ভোটের ফল প্রকাশ হতেই বেধড়ক মার খেয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের হকি সচিব শ্যামল মিত্র। তিনি আবার হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। অভিযোগ, মন্ত্রী অরূপ রায়ের আশীর্বাদে হাওড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব পদে বসেছেন শ্যামল। সেই ক্ষোভের জেরে মারধর করেন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ জনতা। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে মোহনবাগানের আরও এক সদস্য সিদ্ধার্থ রায় (পপ রায়)কে দেখা যায়, কাশীপুর-বেলগাছিয়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা কারোর অজানা নয়। তিনি বিজেপির বিধায়ক জেতার পরে উল্লাস প্রকাশ করছেন। যা দেখে অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন তাঁর দল বদলের সম্ভাবনা নিয়ে। 

কেন রিতেশের সঙ্গে সেলিব্রেশনে পপ?
যদিও এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, এক পোর্টালকে তিনি জানান, 'আমি এখনও তৃণমূল সমর্থক। 'আমি দল বদলায়নি।' তা হলে রিতেশ তিওয়ারির সঙ্গে কী করছিলেন? পপ বলেন, 'রিতেশ আমার বন্ধু। তাই ওকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।' অন্যদিকে উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ সিকদার দাবি করেছেন যে, খেলাধুলার মাঠগুলোকে প্রমোটিং বা নির্মাণকাজের হাত থেকে রক্ষা করে সেগুলোকে প্রকৃত খেলার মাঠ হিসেবেই সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।প্রমোটিংয়ের চক্রান্ত বন্ধ: তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, খেলার মাঠ দখল করে কোনো প্রকার প্রমোটিংয়ের চক্রান্ত সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন সৌরভ।    

কী প্রত্যাশা সৌভিক চক্রবর্তীর?
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ইস্টবেঙ্গলের তারকা ফুটবলার সৌভিক চক্রবর্তী। তাঁর আশা, 'এখানে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত সম্ভাবনা সুপ্ত রয়েছে—বিশেষ করে ক্রীড়াক্ষেত্রে। ফুটবল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে—প্রতিভা, উদ্দীপনা ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে বাংলার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সঠিক পরিকাঠামো, বিনিয়োগ এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে আমরা তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য সাফল্যের সুস্পষ্ট পথ তৈরি করতে পারি এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই ক্রীড়া-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। ক্রীড়া উন্নয়ন, তৃণমূল স্তরের কর্মসূচি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অর্থবহ সুযোগ সৃষ্টির ওপর নতুন করে গুরুত্বারোপ করা হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।' 

Advertisement

ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মনোজও
অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে তৃণমূল সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মনোজ তিওয়ারি। ভারতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার পাশাপাশি তিনি রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। হাওড়ার প্রাক্তন এই বিধায়কের অভিযোগের তীর মূলত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। 

সব মিলিয়ে তৃণমূল আমল নিয়ে নানা ক্ষোভ যেমন সামনে আসছে, তেমনই সামনে আসছে নাগরিকদের নতুন প্রত্যাশার কথাও। ফলে নতুন সরকারের সামনে ময়দান নিয়ে অনেক দায়িত্ব তা বলাই যায়। 

POST A COMMENT
Advertisement