খালিদ জামিলফিফা উইন্ডোর বাইরে ফুটবলাররা জাতীয় দলের ম্যাচ খেলতে গিয়ে চোট পেলে তাঁদের চিকিৎসার দায় কে নেবে? এই মর্মে ফেডারেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে মোহনবাগান সূত্রে খবর। সেই চিঠির উত্তর না পাওয়ার পরই ফুটবলারদের বেঙ্গালুরুর শিবির থেকে ফিরে আসতে নির্দেশ দেয় মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। ফলে শিবিরে যোগ দেওয়া ছয় ফুটবলার ফিরে আসেন।
কিন্তু রবিবার ফেডারেশনের থেকে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণ দাবি করেন, এমন কোনও চিঠির অস্তিত্বই নেই। তিনি আরও দাবি করেছেন, ক্লাবের তরফে ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে। ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণ এদিন এই প্রসঙ্গে বলেন, 'গণমাধ্যমে এক ক্লাব কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, মোহনবাগান ছয়দিন আগেই ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, ফিফা উইন্ডোর বাইরে খেলোয়াড়রা আহত হলে ফেডারেশনকেই তার দায়ভার নিতে হবে, এবং তারা অভিযোগ করেছে যে আমরা নাকি সেই চিঠির কোনো উত্তর দিইনি। এমন কোনো চিঠির অস্তিত্বই নেই। বরং লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিটি কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে ১০ এপ্রিলের পর থেকে ফেডারেশন ক্লাবেদেরকে মোট চারটি চিঠি পাঠিয়েছে।'
ফেডারেশন কর্তাটির আরও দাবি, জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পাওয়া ফুটবলারদের চিকিৎসা ও রিহ্যাবের বিষয়টিও যথেষ্টই গুরুত্ব দেয় ফেডারেশন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এআইএফএফ সিনিয়র ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের ফুটবলারদের চিকিৎসা ও রিহয়বের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন ফুটবলারদের বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য ক্লাব পূর্ণ সহযোগিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে না গিয়ে ফুটবলারদের ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।
এআইএফএফের তরফে দীর্ঘ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে পুরো বিষয়টির। তারা জানিয়েছে, ২০ মে তারা একটি চিঠি পেয়েছিলেন মোহনবাগানের তরফ থেকে। যেখানে ক্লাবের তরফে উল্লেখ করা হয়েছিল ফিফা উইন্ডো চলাকালীনই ফুটবলারদের ছাড় হবে। ফেডারেশন যেন সেই মতো ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়। এরপর ২২ মে বেঙ্গালুরুর শিবিরে মোহনবাগানের থেকে ডাক পাওয়া সাত জনের মধ্যে ছয় জন যোগ দেন। আপুইয়া চোটের জন্য যেতে পারেনি।
২২ মে সন্ধ্যায় মোহনবাগানের ফুটবলাররা রিকভারি সেশনেও যোগ দিলেও পরের দিন সকালে ক্লাবের তরফে নির্দেশ যায় অনুশীলনে যোগ না দিয়ে ফিরে আসার। এরপর জাতীয় কোচ খালিদ জামিল মোহনবাগানের ছয় ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ফুটবলাররা ক্লাবের নির্দেশের কথা বলেন কোচকে। তারপর ফিরে আসেন। ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগে ফুটবলারদের না ছাড়ার বিষয়টি জানা থাকলে এই ছয় ফুটবলারের তরফে পরিবর্ত ফুটবলারের ব্যবস্থা করা যেত। এই মুহূর্তে সময়ের অভাবে তা সম্ভব নয়। আঠারো জন ফুটবলার নিয়েই এদিন লন্ডন উড়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। হাউনটি কাপকে অনুমোদন দিল ফিফা।