Pakistan Cricket Crisis: পাকিস্তান ক্রিকেটে তো সার্কাস চলছে! কোচ, ক্যাপ্টেন সহ দেদার ছাঁটাই, তুমুল খোরাক

না আছে কোচ, না ক্যাপ্টেন। পাকিস্তান ক্রিকেট টিম থেকে ৭ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে রাতারাতি। আনা হয়েছে ৫ জন নতুন অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে। কী সার্কাস চলছে পাকিস্তান ক্রিকেটে?

Advertisement
পাকিস্তান ক্রিকেটে তো সার্কাস চলছে! কোচ, ক্যাপ্টেন সহ দেদার ছাঁটাই, তুমুল খোরাকপাকিস্তান ক্রিকেটে সার্কাস চলছে
হাইলাইটস
  • না আছে কোচ, না ক্যাপ্টেন
  • ৭ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে রাতারাতি
  • কী সার্কাস চলছে পাকিস্তান ক্রিকেটে?

ন'য়ের দশকে পাকিস্তানি ক্রিকেট দল অপ্রতিরোধ্য শক্তি ছিল। ওই সময়ের পাকিস্তানি প্লেয়ারদের রীতিমতো ভয় পেত প্রতিপক্ষ দলগুলি। সেই দলের বর্তমান দুর্দশা দেখে অবাক ক্রিকেটমহল। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতার, সাইদ আনোয়ার, সাকলাইন মুশতাক এবং শাহিদ আফ্রিদির মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া পাকিস্তান দলের সঙ্গে এখনকার দলের আকাশ এবং পাতাল তফাৎ।

বর্তমানে পাকিস্তানে যাঁরা নিজেদের তারকা বলে দাবি করে, তাঁদের পারফর্ম্যান্সও শোচনীয়। সার্বিক ভাবে প্রতিবেশি দেশটির ক্রিকেট দল বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। দলটি যে এমন অবস্থায় পৌঁছবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এ কারণেই ইংল্যান্ড সফরের সময়ে পাকিস্তানি দলে বদল আনার পরামর্শ দিয়েছিল ক্রিকেটমহল। 

পাকিস্তান টিমের ভিতরে বর্তমানে একটি বিশাল সার্কাস চলছে। যা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে বর্তমান টেস্ট স্কোয়াড থেকে ৭ জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হল এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হল। এই বড় রদবদলের পর মিসবাহ-উল-হকও পাকিস্তান নির্বাচন কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন। সার্বিক ভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট টিম এখন অস্ত্রোপচারের মতো অবস্থায় আছে এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন টিম এখন এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। 

পাকিস্তান লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানে এবং সিরিজে ০-২ ব্যবধানে হেরে গিয়েছে। তারপর যা ঘটেছিল, তা ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিদঘুটে অধ্যায়। 

মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলা ৫ জন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় এখন দলে রয়েছেন। যাদের মধ্যে স্যাম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল ইংল্যান্ড সফরে যোগ দিয়েছেন। সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে এখন টেস্ট কোচিং স্টাফে যোগ দিয়েছেন। 

বাদ পড়া ৭ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলি উসমান, আমির জামাল, আওয়াইস জাফর এবং খুররাম শাহজাদ। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা তৃতীয় টেস্টের আগে দলে যোগ দেওয়া ৫ জন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় হলেন আরাফাত মিনহাস, মহম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মহম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া এবং রাজাউল্লাহ। 

Advertisement

গত কয়েক বছরে পাকিস্তান দলে উল্লোখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এর আগে কখনও সম্ভবত একটি টেস্ট সিরিজের মাঝপথে এমন পরিবর্তন আসেনি। লর্ডসের এই পরাজয়টি ছিল গত ২০টি টেস্টের মধ্যে পাকিস্তানের ১৫তম হার। তারা বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে। ঠিক যেখানে তারা আগের মরশুমে শেষ করেছিল। 

কিন্তু পাকিস্তান দলের অবস্থার অবনতি হল কীভাবে? এটা কি কোনও আকস্মিক ঘটনা, নাকি বছরের পর বছর ধরে এমনটাই ঘটে আসছে? 

পতন শুরু ২০২৩ সালে
পতনের শুরু হয় ৩ বছর আগে, ২০২৩ সালের ODI বিশ্বকাপ থেকে। সব ফরম্যাট মিলিয়ে পাকিস্তান এতবার অধিনায়ক বদল করে, তা গোনা মুশকিল। সাম্প্রতিক কালে কোনও ODI সিরিজ না থাকায় শান মাসুদকে টেস্ট অধিনায়ক এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টি-২০ অধিনায়ক করা হয়েছে। ODI পদ এখনও শূন্য। মাইক আর্থার সহ পুরো কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়া হয়। 

শান মাসুদ ও শাহিন শাহ আফ্রিদিও ব্যর্থ 
২০২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ জানুয়ারির মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফরে শান মাসুদের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ০-৩ ব্যবধানে হারে। শাহিন শাহ আফ্রিদিও নিউজিল্যান্ডেপ বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ১-৪ ব্যবধানে হেরে যান। 

সাদা বলের অধিনায়ক বাবর আজম
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ বাবর আজমকে পাকিস্তানের ODI এবং টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে ফেরানো হয়। তবে টি-২০ বিশ্বকাপে বাবরের অধিনায়কত্ব সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ যায় পাকিস্তান। 

বাবর আবার পদত্যাগ করেন
টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের খারাপ পারফর্ম্যান্সের পর বাবর আজম আবারও অধিনায়কত্ব ছাড়েন। এরপর গ্যারি কার্স্টেন সাদা বল এবং জেসন গিলেস্পি লাল বলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু ২০২৪ সালেরই অক্টোবর এবং ডিসেম্বরে বোর্ডের সঙ্গে মতভেদের জেরে তাঁরাও পদ ছেড়ে দেন। 

২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজন করার পরও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে পাকিস্তান। এর মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটিতে বড় বদল আনা হয়। আকিব জাভেদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফর্ম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। মনে করা হয়, বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই পদমর্যাদা। 

টি-২০ থেকে বাদ বাবর ও রিজওয়ান
গত বছর মার্চে সালমান আলি আগাকে টি-২০ অধিনায়ক করা হয়। এশিয়া কাপের দল থেকে রিজওয়ান ও বাবরকে বাদ দেওয়া হয়। গতবছর অক্টোবরে মহম্মদ রিজওয়ানকে ODI অধিনায়ক পদ থেকে সরিয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে নতুন ক্যাপ্টেন করা হয়। 

 এ বছর কী কী বদল?
চলতি বছরের শুরুতে এপ্রিলে সরফরাজ আহমেদকে পাকিস্তান টেস্ট গলের প্রধান কোচ করা হয়। আসাদ শফিক ও উমর গুলকে যথাক্রমে ব্যাটিং ও বোলিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জুলাইয়ে শান মাসুদকে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে বাবর আজমকে ফেরানো হয়। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি, নোমান আলির মতো সিনিয়রদের টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে নতুন খেলোয়াড়দের আনা হয়। 

এরপর ইংল্যান্ড সিরিজে হারের পর ফের ক্যাপ্টেন করা হয় সালমান আগাকে। ৭ জন খেলোয়াড়কে বরখাস্ত করা হয়। হেড কোচ, বোলিং কোচকেও বের করে দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা শুধু খেলোয়াড়দের বাজে ফর্মের ফল নয়, আসল সমস্যাটা বোর্ডের মধ্যেই। তাদের অস্থিতিশীলতা, ভুল পদক্ষেপ দলটিকে গোল্লায় পাঠিয়েছে। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেহে দেখা হচ্ছে এই বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement