অলিম্পিক নিয়ে কী বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর?আজ লালকেল্লায় ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ভাষণেই তিনি দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের জন্য বিরাট টার্গেট সেট করেছেন। নয়াদিল্লিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নেওয়া। সেই মতো ট্যালেন্ট খোঁজার কাজ শুরু হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ট্যালেন্ট খোঁজার কাজ চলবে...
ভারতের অলিম্পিক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ভারত সরকার। সেই মতো দেশজুড়ে প্রতিভা খুঁজে আনার কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই ছোটবয়সে সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করা হবে। তারপর তাঁদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে উন্নত পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
মোদী জানান, ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রকে আরও বড় করে তুলতে হবে। ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে যাতে দেশের ক্রীড়াবিদরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সেজন্য তাঁদের আগেভাগে প্রস্তুত করতে হবে।
২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস
মাথায় রাখতে হবে, ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর তার ঠিক ৪ বছর আগেই ট্যালেন্ট খোঁজার কর্মসূচি ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
২০৩০ সালে গুজরাতের আহমেদাবাদে বসবে এই প্রতিযোগিতার আসর। ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে আয়োজক দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এটি হবে কমনওয়েলথ গেমসের শতবর্ষের বিশেষ সংস্করণ।
আর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন হতে চলেছে ভারতে। এর আগে ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০৩০ সালের গেমসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া বিভাগকে গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খেলাকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমেই ভারতের পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে চাইছেন মোদী।
উল্লেখ্য আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম কমপ্লেক্স-সহ একাধিক বড় পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করেই কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজন করা হবে। সেই মতো মাঠের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে।
ভারতের জন্য ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস নতুন ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা, প্রতিভাবান তরুণ ক্রীড়াবিদদের চিহ্নিত করা এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য শক্তিশালী অ্যাথলিট তৈরির একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
তাই ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে প্রতিটি ক্রীড়া বিভাগে ভারতের অংশগ্রহণের মোদীর ডাক দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের প্ল্যানিংয়ে নয়া মাত্রা যোগ করেছে। এখন মূল লক্ষ্য, ছোটবয়সেই প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা।