
চিঠিতে ক্রিকেট তারকা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের 'শেষ করে দেওয়ার' হুমকি দেওয়া হয়েছে। Sourav Ganguly Death Threat: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি। সৌরভ এবং তাঁর স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়কে থ্রেট করে একাধিক চিঠি পাঠানোর অভিযোগ। সেই চিঠিতে ক্রিকেট তারকা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের 'শেষ করে দেওয়ার' হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রথম প্রথম চিঠিগুলি পাত্তা দেননি গাঙ্গুলি পরিবার। কিন্তু পরে ঘন ঘন এমন চিঠি আসতে শুরু করায় তাঁরা নড়েচড়ে বসেন। ইতিমধ্যেই পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সৌরভের পরিবারের তরফে এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর পক্ষ থেকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে খবর।
হুমকি চিঠিতে ঠিক কী লেখা?
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সৌরভের অফিসে একটি চিঠি আসে। চিঠিটি সম্পূর্ণ ইংরেজিতে লেখা। কিছুটা অসংলগ্ন, কিছুটা হুমকি। সেখানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারকে রীতিমতো থ্রেট করা হয়েছে। চিঠির ইংরাজি গ্রামার, বাক্য গঠন বেশ অগোছালো, বিভ্রান্তিকর। তবে তার বাংলা সারমর্ম করলে যা দাঁড়ায়, তা হল,
'আমরা দীর্ঘদিন ধরে আপনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। আপনি আমাদের সমস্ত সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন এবং একগুঁয়েমি করে চলেছেন। আমরা মনে করি, আপনার আচরণে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আপনি তা না করলে আমরা আপনাকে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে দেব না। আমরা শক্তিশালী, তাই আমাদের কখনও হালকাভাবে নেবেন না। আমরা এমন এক ব্যক্তির উপর ক্ষুব্ধ, যিনি আমাদের কোনও একটি জায়গায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি যদি আমাদের কাজে এভাবে হস্তক্ষেপ করতে থাকেন, তাহলে আমরা তাঁকে 'শেষ করে দিতে’'পারি। আমরা মনে করি, সমাজের কল্যাণের জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপগুলি প্রয়োজন এবং আমরা তা করতে প্রস্তুত।'
প্রথমে বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি সৌরভ। কিন্তু একই ধরনের চিঠি বার বার আসতে থাকে।

ছ’মাস ধরে একের পর এক চিঠি
পরিবার সূত্রে দাবি, গত প্রায় ছ’মাস ধরে এই ধরনের চিঠি আসছিল। প্রথম দিকে সেগুলিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অনেকে মনে করেছিলেন, কোনও দুষ্টু ফ্যান বা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ ক্রিকেটপ্রেমীর পাঠানো চিঠি হতে পারে।
কিন্তু দিন দিন চিঠির সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাম্প্রতিক চিঠির ভাষা আগের তুলনায় আরও ভয়ঙ্কর বলে অভিযোগ। ফলে বিষয়টি আর হালকা ভাবে নেয়নি সৌরভ ও তাঁর পরিবার।
এর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সৌরভের পরিবারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর তরফেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চিঠিটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, কে পাঠিয়েছে এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে কি না; সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, চিঠিগুলি কুরিয়ারের মাধ্যমে সৌরভের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। খামের উপর প্রেরকের নাম হিসেবে অরুণ কুমার নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি বেলঘরিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। যদিও চিঠির তলায় 'ফ্রম গড' লেখা।
অরুণ কুমারই কি চিঠি পাঠিয়েছেন?
তচিঠিগুলি সত্যিই অরুণ কুমার নামে ওই ব্যক্তি পাঠিয়েছেন, নাকি তাঁর নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ এই কাজ করেছে?
চিঠিতে একটি ফোন নম্বরও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ওই নম্বরের পরিচয় জানতে পুলিশ বিভিন্নভাবে খোঁজ চালাচ্ছে। সেই নম্বর ডায়াল করলে দেখা যাচ্ছে, কলার-আইডিতে ‘অরুণ কুমার’ নামেই দেখাচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর প্রশাসন
ভারতীয় ক্রিকেট টিমের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। শুধু কলকাতা নয়। বিশ্বজুড়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও হুমকিকে হালকাভাবে নিয়ে ঝুঁকি রাখতে নারাজ প্রশাসন।
সৌরভের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁর পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স, বাড়ি ও অফিসে যাতায়াত এবং অন্যান্য কর্মসূচির বিষয়গুলি বিবেচনা করে নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশের তরফে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। হুমকির চিঠির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
চিঠির উৎস, কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে পাঠানোর তথ্য, খামের বিবরণ এবং চিঠিতে থাকা ফোন নম্বর; সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে একই ধরনের চিঠি কোথা থেকে এসেছে, সেগুলির সঙ্গে সাম্প্রতিক চিঠির কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হুমকির চিঠির প্রেরক এবং তার পিছনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা।