
লর্ডসের ব্যালকনিতে জামা ঘোরাচ্ছেন সৌরভ। ফাইল ছবি। সৌজন্য- টুইটার।দাদাগিরি! এই কথাটা শুনলেই বাঙালির শিঁরদাড়ায় বয়ে যায় বাঙালির শিরদাঁড়ায় রক্তের হিমেল স্রোত। ২০০২ সালের ১৩ জুলাই দিনটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত বিশেষ বলে প্রমাণিত হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যই। এখনও এই দিনটি এক কথায় মনে পরে যায় ক্রিকেট অনুরাগীদের। এই দিনই, ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে টিম ইন্ডিয়া। জয়ের পরে অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক লর্ডসের বারান্দা থেকে নিজের জামা ঘোরানোর মুহূর্তটা এখনও টাটকা। ফাইনাল ম্যাচে ইংল্যান্ড ভারতের পক্ষে জয়ের জন্য ৩২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। জবাবে এক পর্যায়ে ভারতের পাঁচ উইকেট পড়েছিল মাত্র ১৪৬ রানে। তবে যুবরাজ সিং ৬৯ রান এবং মহম্মদ কাইফের (অপরাজিত ৮৭ রান) ভারতীয় দলকে পৌঁছে দিয়েছিল জয়ের স্মরণীতে।
ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন থ্রেসকথিক-হুসেন
টস জিতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক নাসের হুসেন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ওপেনার নিক নাইটকে (১৪) শীঘ্রই সাজঘরে পাঠান জহির খান, তবে দ্বিতীয় ওপেনার মার্কাস থ্রেসকথিক পুরোদমে শুরু করেছিলেন। নাসের হুসেনের সাথে থ্রেসকোথিক দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৫ রান যোগ করে ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। নাসের হুসেন ১১৫ রান করেছেন, আর ট্রেসকোথিক ১০৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষটি যোগ করা ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। দুর্দান্তভাবে ব্যাট করে ইংল্যান্ড স্কোর হয়েছিল ৩২৫/৫।
ভারতের দুর্দান্ত শুরু
২০০২ সাল নাগাদ ওয়ানডেতে তিন শতাধিক রানের লক্ষ্য তাড়া করা অসম্ভব বলে মনে করা হতো। ড্যারেন গফ, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ এবং অ্যালেক্স টিউডারের মতো ফাস্ট বোলারদের সামনে আরও কঠিন কাজ ছিল। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ (৪৫) এবং সৌরভের (৬০ রান) প্রথম উইকেটের জন্য দ্রুত ১০৬ রানের জুটিতে ভারতীয় দলকে দুর্দান্ত শুরু দিয়েছিল। তবে সেহওয়াগ এবং মহারাজের আউট হওয়ার পরে ম্যাচটি নাটকীয় মোড় নেয়। এরপরে ইংলিশ বোলাররা দীনেশ মোঙ্গিয়া (৯), রাহুল দ্রাবিড় (৫) এবং সচিন তেন্ডুলকর (১৪ রানে) আউট করে ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারকে ভেঙে দেয়।

ভারত ১৪৬ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট হারিয়েছিল এবং ভারতের জয়ের পথে যাত্রা কঠিন বলে মনে হয়েছিল। তবে এর পরে যুবরাজ সিং এবং মহম্মদ কাইফ ১২১ রানের পার্টনারশিপ করে আবারও ভারতের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন। ২৭৭ রানের স্কোরে, কলিংউড যুবরাজকে আউট করেছিলেন।এর পরে, হরভজন সিংয়ের সাথে কাইফ ৭ম উইকেটের জন্য ৪৭ রানের পার্টনারশিপ করে নিয়ে ম্যাচটি ভারতের দিকে ঝুঁকিয়েছিলেন। তবে ৪৮ তম ওভারে হরভজন (১৫) ও কুম্বলেকে (0) আউট করে ফ্লিনটফ ভারতীয় শিবিরে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এখন ভারতের ১৩ বল ১২ রান দরকার ছিল যার পুরো দায়িত্ব ছিল কাইফ ও জহির খানের কাঁধে। দু'জন খেলোয়াড়ই ভারতের কোটি কোটি অনুরাগীর প্রত্যাশা পূরণ করে ভারতকে একটি স্মরণীয় জয় উপহার দিয়েছিল।
সৌরভ প্রতিশোধ নিয়েছিলেন!
যদিও যুবরাজ সিং এবং মহাম্মদ কাইফ ফাইনাল ম্যাচে ভারতকে জিতিয়েছিলেন শেষের দিকে। তবে ম্যাচের আসল নায়ক অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হয়ে আত্মপ্রকাশ করলেন। ভারতের জয়ের পর দাদা তাঁর জামা খুলে ও ঘুরিয়ে কেবল এই বিজয় উদযাপনই করেননি, তবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হওয়া অতীতের এক ঘটনার প্রতিশোধও নিয়েছিলেন আসলে, ২০০২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড ভারতকে পাঁচ রানে পরাজিত করেছিল, পুরো ভারতীয় দল ২৫০ রানে অলআউট হয়েছিল। এই ম্যাচে, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ জয়ের পরে টি-শার্ট খুলে ঘুরিয়ও ও মাঠে ঘুরে উদযাপন করেছিলেন। লর্ডসে ফ্লিনটফদের বিরুদ্ধে জয়ের পর একই ভাবে লর্ডসের ব্যালকনিতে উদযাপনে মেতেছিলেন মহারাজও।