
শওকত পুত্র ইমরান মোল্লার লাক্সারি ক্যাফেতে বুলডোজার অ্যাকশনইতিহাসে অনেকেই পড়েছেন, আগে রাজাদের নিজস্ব চিড়িয়াখানা থাকত। অনেকে আস্ত অভয়ারণ্যও বানিয়ে ফেলতেন। রাজা, বাদশাদের শখ বলে কথা! তৃণমূল কংগ্রেসের জমানাতেও দেখা যাচ্ছে, এলাকায় এলাকায় রাজা, জমিদার, বাদশা গজিয়েছিল। এই যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা। সুবিশাল ক্যাফে বানিয়েছিল। নাম রেখেছিল 'অরণ্যের কূলে'। মাতলা নদীর চর, সেচ দফতরের জমি দখল করেই নাকি রমরমিয়ে চলছিল ব্যবসা। বাবা বিধায়ক কিনা!
শওকতের ছেলের আলিশান ক্যাফেতে বুলডোজার অ্যাকশন
আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার ইমরানের 'অরণ্যের কূলে' বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হল। মাইলের পর মাইল ম্যানগ্রোভ কেটে মাতলা নদীর চর দখল করে যে 'তপোবন' গড়েছিল ইমরান। কোটি কোটি টাকা রোজগারও চলছিল। মাতলার চরে ওই আলিশান রেস্তোরাঁয় থাকারও ব্যবস্থা ছিল। একান্ত যাপনের লাক্সারি সুবিধা। হাঁটার আলাদা বিশাল পার্ক। খানাপিনা। মোচ্ছব। চলেছে দিনের পর দিন।

আগেই নোটিশ দিয়েছিলেন মহকুমাশাসক
আগেই ওই ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন মহকুমা শাসক। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল অভিযোগ, ক্যানিং-১ ও ক্যানিং-২ ব্লক সংযোগকারী মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় ম্যানগ্রোভ কেটে ক্যাফে তৈরি করেছিল প্রাক্তন বিধায়কের পুত্র। সেই সেই ক্যাফেতেই গত শুক্রবার আইনি নোটিশ পাঠান ক্যানিংয়ের মহকুমাশাসক। ইমরানের জমা দেওয়া কাগজপত্র খতিয়ে দেখা গিয়েছে, মাতলার চরে সেচ দফতরের জমি দখল করে বিশাল ক্যাফেটেরিয়াটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটির কোনও বৈধতা নেই। সম্পূর্ণ বেআইনি।

আগে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি
ইতিমধ্যেই ভাঙড়ে বিস্ফোরণ কাণ্ডে শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই ছেলে ইমরানের ক্যাফে নজরে আসে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চললেও আগে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি।

ISF নেতা আরাবুল ইসলাম এবিষয়ে বলেন, 'তৎকালীন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা ও তাঁর ছেলে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ এবং জমি দখল করেছে ।

মাতলা নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে অরণ্যের কূলে নামে ক্যাফেটি তৈরি করেছে শওকতের ছেলে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে নির্মাণ দখলমুক্ত করার জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি ।'