একটা বন্ধ ঘর। দরজায় ঝুলছে তালা। মাসের পর মাস ভাড়া বাকি, অথচ ভাড়াটিয়ার কোনও পাত্তা নেই। বারবার ঘর খালি করার কথা বলেও মেলেনি কোনও উত্তর। উল্টে অভিযোগ, বাড়িওয়ালাকে নাকি ছুরি দেখিয়ে হুমকিও দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়া! তারপর আচমকাই একদিন উধাও তিনি। দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকা ঘরটিকে ঘিরে বাড়তে থাকে সন্দেহ। শেষ পর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে তালা খুলে ভিতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন বাড়ির মালিক। কিন্তু দরজা খুলতেই যে দৃশ্য চোখে পড়ল, তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে 500 টাকার নোটের মতো দেখতে কাগজের বান্ডিল! শুধু তাই নয়, ঘরের ভিতরে রয়েছে প্রিন্টার, ছাপার কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম এবং এমন কিছু কাগজ, যেগুলির একদিকে ছাপা হলেও অন্য দিকটা তখনও ফাঁকা। ভাড়া না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে যে ঘরের তালা খুলতে গিয়েছিলেন বাড়িওয়ালা, সেই ঘরেই যে এমন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কি তিনি কল্পনাও করেছিলেন? প্রাথমিক তদন্তে সামনে এসেছে প্রায় 37 লক্ষ টাকার নোটের মতো দেখতে কাগজ ছাপানোর অভিযোগ। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় 48 লক্ষ টাকা বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ভাড়া দিতে না পারা সেই ভাড়াটিয়া কি সত্যিই ঘরের ভিতরে বসে জাল নোট ছাপাচ্ছিলেন? এই বিপুল পরিমাণ কাগজ ছাপানোর পিছনে কি অন্য কোনও চক্র রয়েছে? আর যে ব্যক্তি এত দিন ওই ঘরে থাকতেন, তিনি কোথায় উধাও হয়ে গেলেন?
closed room found with fake currency printing materials