প্রস্তুত অগ্নি ৬Agni-6 India 12000 Km Missile: ভারতের হাতে আসতে চলেছে মহাশক্তিশালী এক ব্রহ্মাস্ত্র। শত্রুদেশের রাতের ঘুম ওড়াতে এবার তৈরি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘অগ্নি-৬’ (Agni-VI)। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (DRDO) চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামাত এক বড় বয়ানে জানিয়েছেন, এই অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরির নকশা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন শুধু অপেক্ষা কেন্দ্রের মোদী সরকারের সবুজ সংকেতের। সরকার ‘হ্যাঁ’ বললেই অগ্নি-৬-এর প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির কাজ শুরু হবে।
কতটা মারাত্মক এই মিসাইল?
অগ্নি-৫-এর সাফল্যের পর অগ্নি-৬ হবে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা হবে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার। তবে হালকা যুদ্ধের সরঞ্জাম বা পেলোড বহন করলে এটি ১৪ থেকে ১৬ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারবে। অর্থাৎ, ভারতের মাটি থেকে উৎক্ষেপণ করলে এশিয়ার যেকোনো প্রান্ত তো বটেই, ইউরোপ ও আফ্রিকার অধিকাংশ অংশও থাকবে এই মিসাইলের নাগালে।
এক মিসাইলেই ধ্বংস হবে একাধিক শহর
অগ্নি-৬-এর তুরুপের তাস হলো এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি। অর্থাৎ, একটি মিসাইলের মধ্যেই ১০ থেকে ১১টি আলাদা পরমাণু অস্ত্র বা ওয়ারহেড লাগানো যাবে। মাঝ আকাশে এই ওয়ারহেডগুলো একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আছড়ে পড়বে। শত্রুপক্ষের রাডার বা মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এই ‘মাল্টিপল অ্যাটাক’ ঠেকানো কার্যত অসম্ভব।
কেন এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন?
ভারত বর্তমানে চিন ও পাকিস্তান, এই দুই দিক থেকেই নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। চিনের ভাণ্ডারে ইতিমধ্যেই ১০ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অগ্নি-৬ হাতে এলে ভারত সমমর্যাদায় ড্রাগন বাহিনীকে টেক্কা দিতে পারবে। ৩ টন ওজনের পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি রাস্তা বা রেল, যে কোনও মোবাইল প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। এর ফলে বিপক্ষ দেশ ভারতের মিসাইল লোকেশন সহজে খুঁজে পাবে না।
ডিআরডিও প্রধানের বক্তব্য স্পষ্ট, প্রযুক্তিগতভাবে ভারত এখন বিশ্বমানের। ২০২৫-এর মধ্যেই এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার অনুমতি দিলে অগ্নি-৬ হবে আত্মনির্ভর ভারতের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং দেশের সুরক্ষাকবচ।