সঞ্চার সাথীকয়েকমাস আগেই টেলিকম মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছিল, এবার থেকে ফোনের মধ্য়ে আগে থেকেই ইনস্টল থাকবে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্য়াপ। প্রতিটি মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে তাঁদের নির্মিত মোবাইলে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্য়াপ আগে থেকে ইনস্টল করা অবস্থায় রাখতে হবে। তবে এই নির্দেশ মানতে নারাজ অ্যাপেল ও স্যামসং। এই নির্দেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে গুগলও।
কেন আপত্তি সংস্থাগুলোর?
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে গোপনে ফোন নির্মাতাদের কাছে আধার অ্যাপ আগে থেকে লোড করার প্রস্তাব দিয়েছিল। এই অনুরোধটি এসেছিল আধার কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থা ইউআইডিএআই-এর পক্ষ থেকে, যারা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে অ্যাপল এবং স্যামসাং-এর মতো স্মার্টফোন নির্মাতাদের সঙ্গে এই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করতে বলেছিল।
এর ফলে এটা নিশ্চিত হতো যে, ভারতে বিক্রি হওয়া সমস্ত স্মার্টফোনে নতুন ফোন সেট আপ করার সময় অ্যাপটি আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকবে। ঠিক যেমন ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরের মতো অ্যাপগুলো আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে। প্রতিবেদন অনুসারে, উৎপাদকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর ইনফরমেশন টেকনোলজি’ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে।
গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষ করে অ্যাপল ও স্যামসাং নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে, যে বিষয়গুলো গত বছর সঞ্চার সাথী প্রস্তাবের সময়েও উত্থাপিত হয়েছিল। এছাড়াও, জানা গেছে যে এমএআইটি (MAIT) জানিয়েছে আধার অ্যাপ আগে থেকে ইনস্টল করার জন্য ভারতের জন্য তৈরি ডিভাইসগুলোর জন্য আলাদা প্রোডাকশন লাইন চালু রাখতে হবে, যা সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি করতে পারে।'
সরকারের যুক্তি হলো, আগে থেকে ইনস্টল করা থাকলে নাগরিকদের আলাদাভাবে অ্যাপটি ডাউনলোড না করেই আধার-এর সুবিধাগুলো ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে, যা এর সহজলভ্যতা বাড়াবে।
আধার হলো একটি ১২-সংখ্যার পরিচয় নম্বর, যেখানে ১৩.৪ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় বাসিন্দার বায়োমেট্রিক তথ্য রয়েছে। ব্যাংকিং, টেলিকম থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর আগেও আধারের তথ্য ফাঁস হয়েছে। যার ফলে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সামনে চলে এসেছে।
আচমকাই ‘সঞ্চার সাথী’ নিয়ে এমন নির্দেশিকে সহজভাবে দেখছে না বিরোধী শিবির। নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে তাঁরা। এদিন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ফোনের মধ্যে আগে থেকে ইনস্টল করা সরকারি অ্যাপ আসলেই রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতিয়ার। এটিকে আবার আনইনস্টল করারও কোনও সুযোগ নেই। এটি প্রতিটি নাগরিকের গতিবিধির উপরেই নজরদারি চালাতেই তৈরি হয়েছে।’