টেলিগ্রামের সমস্যাপ্রায় এক সপ্তাহের ঝামেলা। টেলিগ্রাম ব্যবহারই করতে পারেননি ইউজাররা। যদিও এবার ধীরে ধীরে ভারতে পরিষেবা স্বাভাবিক করছে টেলিগ্রাম। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি আবারও গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। এমনকী অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন যে এই অ্যাপে স্বাভাবিকভাবে মেসেজও শুরু হয়েছে। কিন্তু অনেকের আবার হচ্ছে সমস্যা।
NEET-UG পুনঃপরীক্ষার সময় অ্যাপটি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার। তবে সেই সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। সেই অভিযোগ অবশ্য ব্যর্থ হয়েছিল। তারপরই কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়েছিল টেলিগ্রাম। এরপরই ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে টেলিগ্রামের পরিষেবা।
এখনও সমস্যা রয়েছে কিছু জিও ও এয়ারটেল ব্যবহারকারী
ভারতে টেলিগ্রাম পরিষেবা ধীরে ধীরে ফিরছে। তবে এখনও সকল ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন না। অনেকেই জানিয়েছেন, গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করার পরেও তাঁরা সাইন আপ করতে পারছেন না। এমনকী অনেকেই চ্যাট করতে পারছেন না। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে জিও এবং এয়ারটেল, এই দুই নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীরাই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। একজন এক্স (X)-এ লিখেছেন, 'এয়ারটেল নেটওয়ার্কে টেলিগ্রাম কেন কাজ করছে না? অন্য নেটওয়ার্কে ঠিকঠাক চলছে। এয়ারটেলে টেলিগ্রাম পরিষেবা ফিরিয়ে দিন।'
অপর একজন লিখেছেন, 'ভিপিএন ছাড়া এখনও টেলিগ্রাম ব্যবহার করতে পারছি না। আপনাদের কী অবস্থা?'
তবে অন্য অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁদের টেলিগ্রাম স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, বিভিন্ন অঞ্চল ও নেটওয়ার্কে ধাপে ধাপে পরিষেবা ফেরানো হচ্ছে।
টেলিগ্রাম না চললে কী করবেন?
যাঁরা এখনও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁরা অ্যাপটি রিফ্রেশ করতে পারেন। এছাড়া গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটা আপডেট করতে পারেন। তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল টেলিগ্রাম?
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এরপরই সরকার টেলিগ্রামের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সরকারের মতে, টেলিগ্রাম একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। সরকারি আধিকারিকরা দাবি করেন, টেলিগ্রামে ব্লক করা চ্যানেল সহজেই নতুন করে তৈরি করা যায়। ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর ও ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে পারেন। তাই টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। যদিও এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে টেলিগ্রামের পরিষেবা।