ভারতে ই২০ পেট্রোলপেট্রোল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আর নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই নীতি বদলের প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের উপর। কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে ইথানল মেশানো E20 পেট্রোল ভারতের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিক্রি বাধ্যতামূলক। এই পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকবে। এর মিনিমাম রিসার্চ অকটেন হবে রন ৯৫।
এই নির্দেশ দিয়েছে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। ১৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশ। সেখানে বলা হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে এমন পেট্রোল বিক্রি করতে হবে যা ই২০ স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যায়। এক্ষেত্রে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড বা বিআইএস স্ট্যান্ডার্ড মেনে যেন বিক্রি করা হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড় দেওয়া হতে পারে।
ই২০ জ্বালানি কী?
E20 পেট্রোল নিয়ে সারা দেশে হইচই পড়ে গিয়েছে। এতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ প্রথাগত পেট্রোল থাকে।
এই প্রসঙ্গে বলি, ইথানল হল এমন এক ধরনের প্রাকৃতিক জ্বালানি যা আখ, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্য থেকে তৈরি হয়। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, তারা চায় যাতে দূষণ কমে। সেই কারণেই ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া ইথানলের পেট্রোলে ব্যবহার হলে চাষিদের হাতেও উঠবে অনেকটা টাকা। তাদের আয় বাড়বে। এটাও একটা ভাল খবর।
আসলে জুন ২০২২ থেকেই ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আর ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে সেটা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাড়ির কী খবর?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২৩ সালের পর তৈরি হওয়া সব গাড়িতে ই২০ পেট্রোল ব্যবহার করা সম্ভব। এই সব গাড়িতে কোনও বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না। গাড়ি ঠিক ঠাক চলবে। যদিও অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে তাদের মাইলেজ ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গাড়ি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এর ফলে গাড়ির মেন্টেনেন্স চার্জ বাড়ছে।
তবে এই সমস্যার সহজ সমাধান করছে কিছু গাড়ি বিক্রেতা। তাঁদের পক্ষ থেকে ই২০ কনভার্সন কিট আনা হচ্ছে। এর ফলে গাড়ির ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।