মোবাইলে অ্যাকটিভ সিম না থাকলে আর এই অ্যাপগুলিতে লগ ইন করা যাবে না।WhatsApp ব্যবহারের নিয়ম বদলাতে চলেছে। নতুন টেলিকমিউনিকেশন সাইবার সিকিউরিটি অ্যামেন্ডমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, স্ন্যাপচ্যাট সহ একাধিক অ্যাপকে এবার বাধ্যতামূলকভাবে ‘সিম বাইন্ডিং’ করতে বলল কেন্দ্র। অর্থাৎ, মোবাইলে অ্যাকটিভ সিম না থাকলে আর এই অ্যাপগুলিতে লগ ইন করা যাবে না। সেই সঙ্গে বড় পরিবর্তন; ওয়েব ব্রাউজার থেকে লগ ইন করলে প্রতি ছ’ঘণ্টা পর Automatic ভাবে লগ আউট করে দিতে হবে অ্যাপকে। পুনরায় ইউজ করতে ফের কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। সরকারের দাবি, এতে অপরাধীরা আর লুকিয়ে লুকিয়ে থেকে অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতে পারবে না। প্রতিটি মেসেজই ভেরিফায়েড সিমের সঙ্গে কানেক্টেড থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে কারণ কী?
দূরসংযোগ দফতর (DoT) জানাচ্ছে, বর্তমানে মেসেজিং অ্যাপগুলিতে মোবাইল নম্বর একবার ভেরিফাই হলেই কাজ হয়ে যায়। এরপর সিম তুলে ফেললেও বা নম্বর বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাপ চালু থাকে। এই ফাঁকটাই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। বিদেশে বসেও নকল সিম বা নিষ্ক্রিয় নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো যাচ্ছে, ফলে কোনও কল রেকর্ড বা লোকেশন ট্রেস করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।
COAI বলছে, লাগাতার সিম-বাইন্ডিং থাকলে সহজেই মিলবে ইউজারের ট্রেসেবিলিটি; নম্বর, ডিভাইস এবং অ্যাপ একসঙ্গে যুক্ত থাকবে। এতে কমবে স্প্যাম মেসেজ, প্রতারণা এবং আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি। ব্যাঙ্কিং বা UPI অ্যাপের ক্ষেত্রেও এমনই সিম ভেরিফিকেশন চলেই।
বিশেষজ্ঞদের মত
যদিও সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, নকল কাগজে নতুন সিম নেওয়া এখন ততটা কঠিন নয়। তাই এই নিয়ম প্রতারণা পুরোপুরি আটকাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অন্য দিকে টেলিকম শিল্পের মতে, মোবাইল নম্বরই ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল আইডি;তাই নিরাপত্তা বাড়াতে এটাই কার্যকর পথ।
তবে বড় প্রশ্ন;হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই কড়া নিয়ম মানতে গিয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে ইউজারের অভিজ্ঞতায়? ওয়েব ভার্সনে বারবার লগ ইন করতে হবে, সিম বন্ধ থাকলে অ্যাপও ব্যবহার করা যাবে না; ফলে সমস্যায় পড়তে পারেন কোটি কোটি ব্যবহারকারী।