পুনীত চন্দক, Microsoft India President Puneet Chandokভারতীয়দের AI শিখতেই হবে। India Today AI Summit-এ জোরাল দাবি করলেন মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চন্দক। Atmanirbhar AI শীর্ষক আলোচনায় পুনীতের বক্তব্য, আত্মনির্ভর AI মানে এই নয় যে ভারত দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন নিজেদের পৃথক AI নিয়েই কাজ করবে।
AI ইকোসিস্টেমকে মজবুত করতে হবে
Atmanirbhar AI প্রসঙ্গে পুনীত বলছেন, 'AI প্রকল্পে বিনিয়োগ করা, নিজেদের ইকোসিস্টেমকে মজবুত করা ও গ্লোবাল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। মাইক্রোসফট সোভরেইন AI বানানো পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করছে ও ভারতকেও এই রাস্তা বেছে নেওয়া উচিত।'
ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ মত দিয়েছেন পুনীত । তাঁর মতে, AI-কে বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হল, এটিকে পাঁচ লেয়ারের একটি কেক হিসেবে ভাবা। পরিকাঠামো, মডেল, টুল, অ্যাপ্লিকেশন এবং ব্যবহার। এখন ভারতের বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই পাঁচ স্তরের মধ্যে আমরা কোন স্তরে সবচেয়ে বেশি জোর দেব। তাঁর কথায়, ভারতের AI কৌশল দাঁড়িয়ে আছে তিনটি ভিত্তির উপর, উদ্ভাবন, অন্তর্ভুক্তি এবং সার্বভৌমত্ব। আমেরিকা ও চিন এখন AI-তে এগিয়ে থাকলেও ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হল বিপুল জনসংখ্যা ও প্রতিভা। কিন্তু শুধু প্রযুক্তি বানালেই হবে না, আসল ব্যাপার হল AI বিস্তার। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই AI পৌঁছতে হবে। ১০০ কোটি ভারতীয়ের AI ব্যবহার জানা, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গবেষণা ও উন্নয়নে ভারতের বিনিয়োগ এখনও কম
গবেষণা ও উন্নয়নে ভারতের বিনিয়োগ এখনও কম, তাও জানালেন পুনীত। তাঁর মতে, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলে হবে না, ভ্যালু অ্যাড করতে হবে। AI যদি সবার কাছে না পৌঁছয়, তাহলে এর লাভ কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ডিজিটাল ইক্যুয়ালিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ডেটা ভারতে প্রসেস হওয়া জরুরি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি নেব না। দেরি করলে ভারত পিছিয়ে পড়বে। স্টার্টআপ, বড় কোম্পানি ও সরকার, তিন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলেই শক্তিশালী AI ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।'
চাকরি শেষ হবে না, বদলে যাবে
ছোট ব্যবসার জন্য AI বড় সহায়ক হতে পারে। যাদের আলাদা টেক টিম নেই, তারাও এখন ডেটা থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। চাকরি হারানোর ভয় নিয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন পুনীত। তাঁর বক্তব্য, চাকরি শেষ হবে না, বদলে যাবে। ইমেল লেখা বা রেজিউম বানানোর মতো কাজ AI করবে, মানুষ সময় পাবে সৃজনশীল কাজে। সবচেয়ে বড় কথা, ভবিষ্যতের আসল বিভাজন হবে না মানুষ বনাম AI, হবে AI জানা মানুষ বনাম AI না জানা মানুষ। তাই দক্ষতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
শেষে তিনি বলেন, ভারতের হাতে বড় সুযোগ আছে। UPI ও আধারের মতো ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঙ্গে AI ঠিকভাবে যুক্ত হলে, বিশ্বের অন্য কোনও দেশে এমন শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করা কঠিন হবে।