ইনস্টাগ্রামে মেসেজ আর গোপন থাকবে নাইনস্টাগ্রাম বন্ধ করতে চলেছে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড পরিষেবা। যার নির্যাস, ইনস্টাগ্রামে কোনও মেসেজ আর গোপন থাকবে না। প্রাইভেট থাকবে না। আগামী ৮ মে থেকে এই পরিষেবা বন্ধ করতে চলেছে Meta। end-to-end encrypted মেসেজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয়েছিল ইনস্টাগ্রামে। যাতে গ্রাহকদের প্রাইভেসি বজায় থাকে। সেই ফিচার এবার তুলে দিচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। ইনস্টাগ্রামে মেসেজ করলে, তা প্রাইভেট না-ও থাকতে পারে।
ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
Meta একটি ব্লগে জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রামের মেসেজিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে কিছু ব্যবহারকারীর চ্যাট প্রভাবিত হতে পারে। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, যেসব চ্যাট এই পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত হবে, সেই ব্যবহারকারীদের অ্যাপের মধ্যেই বিশেষ নির্দেশনা দেখানো হবে। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ, ছবি, ভিডিও বা অন্য মিডিয়া ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
মেটা আরও জানিয়েছে, যারা ইনস্টাগ্রামের পুরনো সংস্করণ ব্যবহার করছেন, তাদের প্রথমে অ্যাপটি আপডেট করতে হতে পারে। নতুন আপডেট ইনস্টল করার পরেই ব্যবহারকারীরা তাদের চ্যাট ডাউনলোড করার সুবিধা পাবেন। ফলে যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা স্মৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট রয়েছে, তাদের জন্য এই আপডেট করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ
এই পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল ইনস্টাগ্রাম থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মেসেজ পাঠানো ব্যক্তি এবং প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ সেই বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। ফলে এটি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ফিচার সরিয়ে দেওয়ার খবর সামনে আসতেই অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ইনস্টাগ্রামের পর মেটা কি তাদের অন্য জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ফেসবুক মেসেঞ্জারেও একই ধরনের পরিবর্তন আনবে? যদিও এই বিষয়ে মেটা এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা জল্পনা চলছে।
ইন্টারনেটে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অবৈধ কনটেন্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে ইন্টারনেটে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অবৈধ কনটেন্ট বা CSAM (Child Sexual Abuse Material) নিয়ে উদ্বেগ। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকলে অনেক সময় এমন ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এনক্রিপশন সরিয়ে দিলে সংস্থা সরাসরি ডিরেক্ট মেসেজ ও কল স্ক্যান করে সন্দেহজনক বা ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারবে।
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যাতে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের অপরাধমূলক কনটেন্ট শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকরাও এই বিষয়ে কঠোর নিয়ম আনার প্রস্তাব দিয়েছেন।