২০০৭ থেকে iPhone আসলে কন্ডোমের কাজ করছে? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

সাধারণত ভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে কোনও এলাকা বা দেশে জন্মহার কমে আসে। কিন্তু iPhone-এর কারণে কি জন্মহার কমতে পারে? সমীক্ষায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Advertisement
২০০৭ থেকে iPhone আসলে কন্ডোমের কাজ করছে? চাঞ্চল্যকর রিপোর্টজন্মহার কমার পিছনে ভিলেন iPhone?
হাইলাইটস
  • iPhone-এর কারণে কমছে জন্মহার!
  • ২০০৭ সালে প্রথম বাজারে আসে iPhone.
  • ২০০৭ সাল থেকেই হু হু করে কমছে জন্মহার।

iPhone-এর কারণে কমছে জন্মহার! সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মিলছে চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত। সাধারণত ভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে কোনও এলাকা বা দেশে জন্মহার কমে আসে। কিন্তু গবেষকরা গত দু'দশক ধরে দেখছেন এক ভিন্ন চিত্র। ২০০৭ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী জন্মহার প্রায় একই হারে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব হল? সাম্প্রতিক দুটি গবেষণা দাবি করছে এর একটি কারণ হতে পারে আপনার হাতে থাকা আইফোনটি।

ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ-এর তরফে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় সাধারণ জন্মহার প্রতি ১০০০ জন নারীর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০-এর মধ্যে মোটামুটি স্থির ছিল। কিন্তু, এরপর থেকেই জন্মহারে তীব্র ও ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। ২০২৪ সাল নাগাদ তা কমে ৫৪-তে নেমে আসে। অর্থাৎ ১৭ বছরে মার্কিন মুলুকে বার্থরেট ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

iPhone নিয়ে করা একটি সমীক্ষায় কী পাওয়া গেল?

কিন্তু জন্মহার কমার পিছনে আইফোনের প্রভাব পরিমাপ করাও বেশ কঠিন। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে কাকতলীয় ভাবে হলেও সময়ের মিল বড্ড বেশি আশ্চর্যজনক। ২০০৭ সালের জুন মাসে iPhone চালু হওয়ার পর থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আইফোন আমেরিকায় শুধুমাত্র AT&T-এর মাধ্যমেই পাওয়া যেত। এর মানে হলো, ঐ বছরগুলোতে কোনও একটি মার্কিন কাউন্টিতে আইফোনের প্রাপ্যতা নির্ভর করত AT&T-এর মোবাইল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির ওপর। গবেষকরা এটিকে একটি পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যেসব কাউন্টিতে AT&T কভারেজ ছিল, সেই কাউন্টিগুলোর সঙ্গে স্বল্প বা কোনও কভারেজ নেই এমন কাউন্টিগুলোর তুলনা করা হয়েছে।

সেই সমীক্ষা থেকে উঠে আসে, আইফোনের সহজলভ্যতার কারণে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে জন্মহার ৪.৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৩.২ থেকে ৬.৬ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে, এই হিসাবগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ২০০৭-২০১১ সময়কালে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে প্রজনন হার হ্রাসের ৩৩ থেকে ৫২ শতাংশের জন্য আইফোনই দায়ী।

Advertisement

২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে জন্মহার ৭০ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেলেও, ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে জন্মহার কমেছে মাত্র ৭ শতাংশ। উল্টোদিকে ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে জন্মহার প্রকৃতপক্ষে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, যে কাউন্টিগুলিতে আইফোনের AT&T-এর পরিষেবা ছিল না, সেখানে কিশোরীদের মধ্যে জন্মের হার ১৩.৮ শতাংশ কমেছে। আর যেখানে পরিষেবা ছিল সেখানে  জন্মহার কমেছে ১৮.৯ শতাংশ। এর পাশাপাশি যেখানে আংশিক পরিষেবা ছিল এমন কাউন্টিগুলিতে এই হার ছিল ২৬ শতাংশ।

iPhone কি সত্যিই জন্মহারে প্রভাব ফেলে?

গবেষকরা বলছেন, iPhone-ই যে জন্মহার কমার একমাত্র কারণ, তা নাও হতে পারে। তবে জন্মহার হ্রাসের ক্ষেত্রে এটি সম্ভবত একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। মনে করা হচ্ছে, আইফোন এবং অন্যান্য আধুনিক স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বাস্তব জগতে বন্ধুদের সঙ্গে কম সময় কাটাতে শুরু করে, যার ফলে যৌন কার্যকলাপ কমে যায় এবং একই সাথে পর্নোগ্রাফির ব্যবহার বেড়ে যায়, যাকে গবেষকরা যৌনতার একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

শুধু আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বেই প্রভাব

সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদদের করা আর একটি গবেষণায় বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য ব্যবহার করে ১২৮টি দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং কিশোরী গর্ভধারণের হার খতিয়ে দেখা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অত্যন্ত ভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, গর্ভপাত আইন, ধর্মীয় ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক মন্দা এবং জনসংখ্যাগত প্রবণতা সম্পন্ন দেশগুলোতেও একই সময়ে জন্মহার কমেছে।

দুটি সমীক্ষাই স্পষ্ট করে বলছে,জন্মহার হ্রাসের পেছনে আইফোনই একমাত্র কারণ নয়। তবে, এই গবেষণাগুলো এমন একটা সময় ধরে করা হয়েছে যখন ধনী ও দরিদ্র উভয় দেশেই জন্মহার কমছে। আমেরিকায় বর্তমানে প্রজনন হার সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।  কানাডায় ২০২৪ সালে প্রতি মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রজনন হার ছিল ১.২৫ জন সন্তান, যা জাপান, সিঙ্গাপুর এবং স্পেনের মতো দেশে ১.৩০-এর সীমার নীচে রয়েছে।


 

TAGS:
POST A COMMENT
Advertisement