Orkut ফিরবে? নস্ট্যালজিয়া উস্কে ইঙ্গিতমূলক পোস্ট প্রতিষ্ঠাতার

‘Scrapbook’-এ বন্ধুর মেসেজ। প্রোফাইলে পছন্দের গান। আর মন্থর গতির ইন্টারনেটে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে ‘Who viewed my profile’ দেখার সেই কৌতূহল। ২০০০-এর দশকের ইন্টারনেটে Orkut শুধুই সোশ্যাল মিডিয়া নয়।

Advertisement
Orkut ফিরবে? নস্ট্যালজিয়া উস্কে ইঙ্গিতমূলক পোস্ট প্রতিষ্ঠাতার পুরনো Orkut ফিরে আসছে, এমন ঘোষণা হয়নি। 
হাইলাইটস
  • ‘Scrapbook’-এ বন্ধুর মেসেজ। প্রোফাইলে পছন্দের গান।
  • Orkut বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২০১৪ সালে।
  • সেই OG সোশ্যাল নেটওয়ার্ক কী আবার ফিরে আসবে?

‘Scrapbook’-এ বন্ধুর মেসেজ। প্রোফাইলে পছন্দের গান। আর মন্থর গতির ইন্টারনেটে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে ‘Who viewed my profile’ দেখার সেই কৌতূহল। ২০০০-এর দশকের ইন্টারনেটে Orkut শুধুই  সোশ্যাল মিডিয়া নয়। স্কুল-কলেজের বন্ধুত্ব, প্রথম অনলাইন প্রেম, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ; কত স্মৃতিই না জড়িয়ে রয়েছে এই নামের সঙ্গে। সেই Orkut বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২০১৪ সালে। তার পর কেটে গিয়েছে এক দশকেরও বেশি সময়। সেই OG সোশ্যাল নেটওয়ার্ক কী আবার ফিরে আসবে? Orkut-এর প্রতিষ্ঠাতা অরকুট বুয়ুকোকটেন (Orkut Buyukkokten) নতুন একটি সোশ্যাল মিডিয়া গড়বেন কিনা, তাই নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন।

ভারতে তখন ধীরে ধীরে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে। তখনও কিন্তু Orkut-ই ছিল বহু মানুষের প্রথম পছন্দ। কলকাতার কলেজপড়ুয়াদের মধ্যেও এই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা কম ছিল না। তখনও স্মার্টফোন সর্বত্র পৌঁছয়নি। কম্পিউটার, সাইবার ক্যাফে আর ধীরগতির ইন্টারনেটেই চলত অনলাইন বন্ধুত্ব। 

তবে এখনই পুরনো Orkut ফিরে আসছে, এমন ঘোষণা হয়নি। 

Orkut ফেরানোর দাবিতে স্বাক্ষর সংগ্রহ
Orkut-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট orkut.com-এ চলছে সই সংগ্রহ। যাঁরা সেই আগেকার মতো, অ্যালগরিদম-হীন, বিজ্ঞাপনহীন, খালি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ স্থাপন হবে, এমন সোশ্যাল মিডিয়া চান, তাঁদের সমর্থন চাওয়া হচ্ছে সেখানে। তাতে ১১৫টি দেশের ২ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।

প্রতিষ্ঠাতা বুয়ুকোকটেন একটি খোলা চিঠি এবং X-এ দিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্টারনেটের কাজ হওয়া উচিত মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। মানুষ যেন নতুন কমিউনিটি, কালচার, ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার মূল উদ্দেশ্য সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে। এক সময় অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করা, নতুন বন্ধু খুঁজে পাওয়া বা একই হবি, ইন্টারেস্ট আছে এমন মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলাই সোশ্যাল মিডিয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু এখন সবই অ্যালগোরদিমের খেল। সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিরা চাইছে কীভাবে মানুষকে তাদের সাইটে ধরে রাখা যায়। আর বন্ধুত্বের বদলে এখন বিজ্ঞাপন, ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে আয়ের উদ্দেশ্যই বেশি।

Advertisement

নিজের খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'Over two decades ago, I created some of the earliest social networks. I have watched with you as social media has gone wrong.' 

আজকের প্রজন্মের কাছে Instagram, Facebook-এর যে গুরুত্ব, ২০০০-এর দশকে অনেক ভারতীয়ের কাছে Orkut-এর জায়গা ছিল তেমনই। বন্ধুর প্রোফাইলে কমেন্ট করা, নিজের পছন্দের গান বা ছবি শেয়ার করা, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ করা; সব কিছুর মধ্যেই ছিল এক ধরনের নতুনত্ব। ফসিল্‌স, ক্যাকটাস কিংবা চন্দ্রবিন্দুর গান শুনতে শুনতে Orkut-এর প্রোফাইল সাজানোর দিনগুলি তাই এখনও অনেকের কাছে খুব স্পেশাল।

তবে স্মৃতি যতই মধুর হোক, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবসায় টিকে থাকা ভীষণ কঠিন। আপাতত Orkut-এর প্রত্যাবর্তন অনিশ্চিত। কিন্তু পুরনো ইন্টারনেটের সেই দিনগুলি যে এখনও বহু মানুষের মনে অমলিন, তা বলাই বাহুল্য 

POST A COMMENT
Advertisement