প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্ক জুকারবার্গপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ওই ঘটনার পর থেকেই Meta-র উপর চাপ বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু Meta-র তরফ থেকে এখনও কোনও সদর্থক বা ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
আজ অর্থাত্ বুধবার Meta-র উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে মিটিং হয়েছে। এই মিটিংয়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিও সরানোর ইস্যুই নয়, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন অত্যাচার ও হেনস্থামূলক কন্টেন্ট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকেই ভারতের আইন পালন করে চলতে হবে
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকেই ভারতের আইন পালন করে চলতে হবে। কারণ এই ইস্যুটি স্বাধীনতা লঙ্ঘনের নয়, আইন লঙ্ঘনের ইস্যু। এহেন পরিস্থিতির মধ্যে আবার Meta-র সিইও মার্ক জুকারবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৩ দিনের ডেডলাইন দিয়েছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ইনস্টাগ্রামে শিশুদের উপর যৌন হেনস্থামূলক ভিডিও, বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন জুকারবার্গ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিও সরানোর বিষয়ে কিছু সাড়া মেলেনি। কমিটি সতর্ক করেছে, যদি সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া যায়, তবে মেটা-র আইনি সুরক্ষা, অর্থাৎ সেফ হারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সেফ হারবার কী?
'সেফ হারবার' হল তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইটি আইন)-এর ৭৯ ধারার অধীনে প্রদত্ত একটি আইনি সুরক্ষা। এই বিধানের ফলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং X-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা বিষয়বস্তুর জন্য সরাসরি দায়ী থাকে না। তবে কোনও প্ল্যাটফর্ম যদি আইনের বিধান বা নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সুরক্ষা খর্ব হতে পারে।
আজকের মিটিংয়ে কারা ছিলেন বৈঠকে?
Meta-র পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রাঙ্কেল এবং এক্সিকিউটিভ আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণণ। বৈঠকে মেটার কর্মকর্তারা জানান, একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেটি ফেরানো হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হয়।
তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, সরকার জানতে চেয়েছে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলা হল, অথচ আপত্তিকর বা ক্ষতিকর বহু পোস্ট দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে মেটার অ্যালগরিদম ও কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকার।
শিশু যৌন শোষণমূলক কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন
বৈঠকে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত (CSAM) বিষয়বস্তু এবং এমন কনটেন্ট-সম্বলিত পেড বিজ্ঞাপনের অভিযোগও উঠে আসে। গত মাসে এ ধরনের অভিযোগের পর সরকার মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। মেটা-র দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে কঠোর কনটেন্ট মডারেশন নীতি, ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল কার্যকর রয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, তারা কোনওভাবেই প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেয় না এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়।
৫ ঘণ্টা উধাও ছিল প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওই সেলফি ভিডিওটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র বিক্ষোভ চলাকালীন পোস্ট করা হয়েছিল। যুব সমাজের উদ্দেশে দেওয়া এই বার্তাটি প্রায় ৫ ঘণ্টা ফেসবুকে দেখা যায়নি। পরে ভিডিওটি আবার দেখা যায়। সরকার ইতিমধ্যেই মেটার গ্লোবাল টিমকে জবাবদিহির জন্য তলব করেছে। অ্যালগরিদম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সামনেও জবাবদিহি
সোমবার সকালে মেটার প্রতিনিধিরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনেও হাজির হন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি জানতে চায়, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল এবং অন্যান্য সাধারণ ভিডিও সরিয়ে ফেলা হলেও কেন আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্মে থেকে যায়।