টাটাদের কোম্পানির সিস্টেম হ্যাক করল হ্যাকাররাহ্য়াকারদের নিশানায় এবার টাটাদের কোম্পানি। জানা গিয়েছে, চিপসেট, স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ ও অন্য ইলেকট্রনিক্স পার্টস তৈরি করা সংস্থা টাটা ইলেকট্রনিক্সকে টার্গেট করেছিল হ্যাকাররা। এমনকি সেই কাজে প্রায় সফলও হয়েছে দুর্বৃত্তরা। হ্যাকাররা সংস্থাটির সিস্টেম ডেটা হ্যাক করে বেশ কিছু গোপনীয় ফাইল চুরি করেছে বলে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ডেটা চুরির পর হ্যাকাররা সেই অর্থের বিনিময়ে টাকা দাবি করেছে।
জানা যাচ্ছে, যে ডেটাগুলি হ্যাকাররা চুরি করেছে তার মধ্যে কোম্পানির গোপনীয় ফাইল রয়েছে, ফলে সেগুলি কোম্পানির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, টাটা ইলেকট্রনিক্স অ্যাপল এবং টেসলার মতো কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহ করত।
রিপোর্ট মোতাবেক, হ্যাকাররা টাটা ইলেকট্রনিক্সের সিস্টেমে র্যানসমওয়্যার ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এই ভাইরাসটি সিস্টেমের ফাইল ও ডেটা লক করে দেয়। এরপর হ্যাকাররা ডেটা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করে।
জানা গিয়েছে, এই ডেটা চুরির পর ডার্ক ওয়েবে প্রায় ৬৩০ জিবি ডেটা পোস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাপল সংক্রান্ত গোপনীয় কোম্পানির তথ্য, ইমেল, কর্মচারীদের বিবরণ এবং ডিজাইন ডকুমেন্ট রয়েছে । অ্যাপল এবং টেসলা উভয়ই টাটা ইলেকট্রনিক্সের প্রধান গ্রাহক।
সাইবার অ্যাটাকের পর টাটার প্রতিক্রিয়া কী?
টাটা ইলেকট্রনিক্স জানিয়েছে, তারা কয়েক সপ্তাহ আগেই সাইবার হামলাটির বিষয়ে জানতে পেরেছে। তবে, এই হামলায় কোম্পানির কারখানা বা ব্যবসায়িক কাজ কর্মের উপর কোনও প্রভাব পড়েনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে অ্য়াপলও নিজের মতো করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, টাটা ইলেকট্রনিক্স টাটা গ্রুপের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল একটি কোম্পানি। কোম্পানিটি ২০২৩ সালে আইফোন উৎপাদন শুরু করে। টেসলাও ২০২৪ সালে টাটার সঙ্গে একটি সেমিকন্ডাক্টর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এই সাইবার হামলার পর কোম্পানিগুলোর গোপনীয় তথ্য ও ডেটা সিকিউরিটি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।