ভারতে লঞ্চ হল ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ-আর২Yamaha R15। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইয়ামাহার এই বাইক। এবার বাজারে নতুন বাইক আনল এই সংস্থা। স্পোর্টস বাইকের দুনিয়ায় এত দিন ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভই বিকল্প ছিল। এ বার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ আর টু (Yamaha YZF-R2)। এই বাইক বাজারে এনে ২০০ সিসি ইঞ্জিন সেগমেন্টে পা রাখল জাপানি সংস্থাটি।
এটা ইয়ামাহার আর সিরিজের দ্বিতীয় বাইক। এর আগে ২০০৮ সালে ভারতে ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ (Yamaha R15) লঞ্চ করেছিল সংস্থা। তার পর থেকে এই মডেল নানা রূপে এসেছে। নতুন মডেল কবে আসবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাইকপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। এবার সেই অপেক্ষার অবসান।
ডিজাইনে R15-এর ছোঁয়া
Yamaha YZF-R2-এর ডিজাইনে R15 V4-এর ছাপ রয়েছে। শার্প এবং অ্যারোডায়নামিক ফেয়ারিং, কমপ্যাক্ট গঠন এবং অ্যাগ্রেসিভ রাইডিং স্ট্যান্স দেওয়া হয়েছে বাইকে। সামনে রয়েছে LED হেডল্যাম্প, সঙ্গে LED DRL। পিছনে ব্লক-স্টাইলের LED টেললাইট। সব মিলিয়ে স্পোর্টি লুককেই গুরুত্ব দিয়েছে ইয়ামাহা।
দাম কত?
তিনটি ভ্যারিয়েন্টে বাজারে এসেছে Yamaha YZF-R2। বেস মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ২.৩০ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) থেকে। টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম ২.৫৩ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)। ইয়ামাহা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বাইকের ডেলিভারি। একাধিক রঙের বিকল্পও পাওয়া যাবে। ইয়ামাহার দাবি, লঞ্চের আগেই এই বাইকের ৫,০০০ ইউনিট বুকিং হয়ে গিয়েছে।
বেস ভ্যারিয়েন্ট নাম YZF-R2: ২,৩০,৫০০ টাকা (এক্স-শোরুম)
YZF-R2 Quick Shifter: ২,৩৯,৫০০ টাকা (এক্স-শোরুম)
টপ ভ্যারিয়েন্ট YZF-R2M: ২,৫৩,০০০ টাকা (এক্স-শোরুম)
ইঞ্জিন কতটা শক্তিশালী?
নতুন Yamaha YZF-R2-তে রয়েছে ২০৪ সিসির লিকুইড-কুলড, DOHC, ফোর-ভালভ, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ২৬.৫ PS পাওয়ার এবং ১৯.১ Nm টর্ক মেলে। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬ স্পিড গিয়ারবক্স। এছাড়া রয়েছে অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ। বাইকে দেওয়া হয়েছে রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি এবং ইয়ামাহা রাইড কন্ট্রোলl।
তিনটি রাইডিং মোড
নতুন YZF-R2-তে তিনটি রাইডিং মোড রয়েছে, স্ট্রিট, স্পোর্টস এবং রেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই মোডগুলির মধ্যে বেছে নিতে পারবেন চালক।
১৪ কেজির স্টিল ফ্রেম
বাইকে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন স্টিল টিউব ডায়মন্ড ফ্রেম। এই ফ্রেমের ওজন মাত্র ১৪ কেজি। সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক সাসপেনশন এবং পিছনে মনোশক সাসপেনশন। বাইকে দেওয়া হয়েছে ৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে। এতে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি এবং নেভিগেশন ফিচার রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে স্মার্ট কী সিস্টেমও। নিরাপত্তার দিক থেকেও একাধিক ফিচার রয়েছে নতুন বাইকে। ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং স্লিপার ক্লাচ থাকছে। সব মিলিয়ে বাইকের ওজন ১৪৯ কেজি।