
চাকরিজীবীদের জন্য এক মস্ত বড় খুশির খবর নিয়ে হাজির হলো কেন্দ্রীয় সরকার। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার ওপর সুদের জন্য যারা হাপিত্যেশ করে বসেছিলেন তাদের আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই দেশের কোটি কোটি শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে যে খুব শীঘ্রই গ্রাহকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পিএফের সুদের টাকা ঢুকতে শুরু করবে। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য স্বয়ং এই বিষয়ে সিলমোহর দিয়েছেন যা স্বাভাবিকভাবেই চাকুরিজীবী মহলে বড়সড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এবারের অর্থবর্ষের জন্য পিএফের জমার ওপর সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮.২৫ শতাংশ। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রায় ৩৪ কোটি গ্রাহকের পিএফ অ্যাকাউন্টে এই সুদের টাকা সরাসরি ক্রেডিট করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ১.৪৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও। চলতি জুলাই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই সমস্ত যোগ্য গ্রাহকরা তাদের নিজেদের পিএফ পাসবুকে সুদের এই টাকা দেখতে পেয়ে যাবেন বলে সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আগে পিএফের সুদের টাকা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। সাধারণত অক্টোবর কিংবা নভেম্বর মাসের আগে অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা প্রতিফলিত হতো না। তবে এবার আর সেই চেনা ভোগান্তি পোহাতে হবে না চাকুরিজীবীদের। ইপিএফও তাদের সম্পূর্ণ ডেটাবেসকে নতুন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করার ফলেই এবার অনেক আগেভাগে গ্রাহকদের সুদের টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় উপায়ে করা হচ্ছে যার নাম দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রালাইজড আইটি অ্যানাবেল্ড সার্ভিসেস বা সাইটস ২.০১ প্রজেক্ট।

নতুন এই সেন্ট্রাল আর্কিটেকচার চালু হওয়ার ফলে গ্রাহকদের আর নির্দিষ্ট কোনো আঞ্চলিক পিএফ অফিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। এখন দেশের যেকোনো প্রান্তের অনুমোদিত পিএফ অফিস থেকেই সমস্ত পরিষেবা অনায়াসে মিলবে। শুধু তাই নয় কোনো চাকরিজীবী যদি নিজের চাকরি পরিবর্তন করেন তবে তার আধার লিঙ্কড ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নাম্বার বা ইউএএন ভিত্তিক পিএফ অ্যাকাউন্টটি এখন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংস্থায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। এর জন্য আর আলাদা করে কোনো ফর্ম ফিলাপ বা আবেদন করার ঝক্কি থাকবে না।

পদ্ধতি আধুনিক করার পাশাপাশি পিএফ থেকে অগ্রিম টাকা তোলার নিয়মকেও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনেক সহজ করে আনা হয়েছে। আগে পিএফ থেকে আংশিক টাকা তোলার জন্য জটিল ১৩টি আলাদা নিয়মকানুন ছিল যা কমিয়ে এখন মাত্র ৩টি প্রধান ক্যাটাগরিতে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি ব্যক্তিগত প্রয়োজন যেমন চিকিৎসা বা বিয়ে দ্বিতীয়ত বাড়ি তৈরির প্রয়োজন এবং তৃতীয়ত বিশেষ পরিস্থিতি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকরা তাদের মোট পিএফ জমার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা অগ্রিম হিসেবে তুলে নিতে পারবেন।

ইপিএফওর এই নতুন প্রযুক্তিগত ভোলবদলের সুফল পাবেন ফান্ডের অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও। সেন্ট্রালাইজড পেনশন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে দেশের যেকোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখায় এখন পেনশনের টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর জন্য আগের মতো নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখার চক্কর কাটতে হবে না। এমনকি কোনো পেনশনভোগী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হলেও পেনশন পেতে আর কোনো সমস্যা হবে না এবং যেকোনো আঞ্চলিক পিএফ অফিসে গিয়েই ডিজিটাল জীবন শংসাপত্র জমা দেওয়া যাবে।

নিজের পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা ঢুকল কিনা তা জানার জন্য গ্রাহকদের এখন আর সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াতে হবে না। ঘরে বসেই ইপিএফওর অফিশিয়াল মেম্বার পাসবুক পোর্টাল বা উমাং অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যালেন্স চেক করা যাবে। এছাড়া আধার ও প্যান কার্ডের সঙ্গে ইউএএন যুক্ত থাকলে শুধুমাত্র ৯৯৬৬০৪৪৪২৫ নম্বরে একটি মিসড কল দিয়ে কিংবা ৭৭৩৮২৯৯৮৯৯ নম্বরে নির্দিষ্ট বয়ানে এসএমএস পাঠিয়েও অ্যাকাউন্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য মুহূর্তের মধ্যে জেনে নেওয়া সম্ভব।