
শেয়ার বাজার মানেই সাধারণের চোখে কম দামে কিনে বেশি লাভে বিক্রি। কিন্তু দালালি স্ট্রিটের অন্দরে এমন কিছু ‘বাহুবলী’ স্টক রয়েছে, যাদের একটি শেয়ারের দাম শুনলে মধ্যবিত্তের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে। অবস্থা এমন যে, পকেটে আস্ত এক লক্ষ টাকা থাকলেও ভারতের সবথেকে দামি তালিকার প্রথম কয়েকটি শেয়ার ছোঁয়ার সাধ্য নেই আপনার। সাধারণ মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় এক নিমেষে খরচ হয়ে যেতে পারে মাত্র একটি শেয়ারের শংসাপত্র হাতে পেতে।

সম্প্রতি বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, ভারতের সবথেকে দামি স্টকের সিংহাসন অনেকদিন ধরেই নিজের দখলে রেখেছে টায়ার নির্মাতা সংস্থা এমআরএফ (MRF)। দালালি স্ট্রিটে এই নামটা অনেকটা আভিজাত্যের প্রতীক। বর্তমানে এমআরএফ-এর একটি শেয়ারের দাম এক লক্ষ টাকার গণ্ডি বহু আগেই ছাড়িয়ে সগর্বে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীদের ভরসা জোগানো এই স্টকটি এখন কেবল ধনকুবেরদের পোর্টফোলিওতে জায়গা পাওয়ার মতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

তবে এমআরএফ-কে কড়া টক্কর দিতে বাজারে শোরগোল ফেলেছে এলসিড ইনভেস্টমেন্ট (Elcid Investment)। এক সময় এই শেয়ারটির দাম ছিল নগণ্য, কিন্তু গত কয়েক বছরে এর উল্কাগতি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিস্ময়ের সীমা নেই যখন তাঁরা দেখছেন, মাত্র কয়েক হাজার থেকে লাফিয়ে এই স্টকের দাম এখন লাখের ঘরে। মূলত এশিয়ান পেন্টসের মতো বড় সংস্থায় বিনিয়োগ থাকার সুবাদেই এলসিডের এই রমরমা দাপট।

তালিকায় পরের নামটি হলো পেজ ইন্ডাস্ট্রিজ (Page Industries)। ভারতে ‘জকি’ ব্র্যান্ডের অন্তর্বাস উৎপাদন ও বিপণনের দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার শেয়ার কেনাও সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফ্যাশন আর ব্র্যান্ডের মিশেলে এই স্টকের দামও আকাশচুম্বী। বিলাসিতার বাজারে যারা নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেছে, তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যই এই আকাশছোঁয়া দামের মূল রহস্য বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

বিলাসিতার বাইরেও রয়েছে ৩এম ইন্ডিয়া (3M India)-র মতো মাল্টিন্যাশনাল জায়ান্ট। আঠা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, হরেক রকমের পণ্য সম্ভার নিয়ে এই সংস্থাটিও ভারতের বাজারের অন্যতম দামি স্টকের তকমা পেয়েছে। টেকনিক্যাল দিক থেকে শক্তিশালী এই সংস্থার একটি শেয়ার কিনতে গেলেও এখন আপনাকে লাখ টাকার অঙ্ক কষতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য এই স্টকটি ধনীদের পছন্দের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকে।

সবশেষে বলা যায় হানিওয়েল অটোমেশন (Honeywell Automation)-এর কথা। আধুনিক প্রযুক্তি আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেলবন্ধনে এই স্টকটি বাজারদরকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। দালালি স্ট্রিটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ারের উচ্চ মূল্য মানেই যে তা খারাপ, এমন নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে ‘স্প্লিট’ না হওয়ার কারণে শেয়ারের এই রাজকীয় দাম বজায় থাকে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মহার্ঘ্য স্টকগুলি আজও এক অধরা স্বপ্ন হয়েই রয়ে গিয়েছে।