
New Labour Code India 2026: আপনার বার্ষিক সিটিসি (CTC) বা প্যাকেজ যদি ৬ লক্ষ টাকা হয়, তবে এই মাস থেকেই আপনার হিসেবে বড়সড় গোলমাল হতে চলেছে। মাসকাবারিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে টাকাটা ঢোকে, তা এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি নয়া নীতি। সৌজন্যে, ‘নতুন শ্রম বিধি’ বা ‘নিউ লেবার কোড’।

এতদিন বেসরকারি সংস্থায় বেতনের পরিকাঠামো মূলত কোম্পানিগুলির মর্জির ওপর চলত। সেখানে বেসিক পে বা মূল বেতন রাখা হতো মোটে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। বাকিটা আসত হরেক রকম ভাতায়। কিন্তু নয়া বিধিতে নিয়ম কড়া। এবার থেকে বেসিক পে হতে হবে মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, বেতনের অর্ধেক টাকা যদি ‘বেসিক’ হয়, তবে বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে গুছিয়ে নিতে হবে এইচআরএ (HRA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

হিসেবটা খোলসা করা যাক। আপনার বছরে ৬ লক্ষ টাকা প্যাকেজ মানে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন। নয়া নিয়মে এর অর্ধেক অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকা হবে আপনার বেসিক পে। এবার নিয়ম অনুযায়ী, বেসিক বেতনের ১২ শতাংশ টাকা পিএফ (PF) বাবদ কাটে। আগের নিয়মে বেসিক পে কম থাকায় পিএফ-এর টাকা কম কাটত, ফলে ‘ইন-হ্যান্ড’ বা হাতে পাওয়ার টাকা বেশি আসত। এবার পিএফ-এ বেশি টাকা জমা পড়ায় মাসের শেষে হাতে নগদ কম পাবেন আপনি।

তবে কি পুরোটাই লোকসান? বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিষয়টি ‘আজকের ক্ষতি বনাম আগামীর সঞ্চয়’। পিএফ-এ আপনার জমা টাকা বাড়লে সংস্থা থেকেও সমান পরিমাণ টাকা জমা পড়বে। ফলে আপনার রিটায়ারমেন্ট ফান্ড বা অবসরের পুঁজি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। গ্র্যাচুইটির অংকটাও এক ধাক্কায় বাড়বে অনেকটা। অর্থাৎ, আজ পকেটে টাকা কম ঢুকলেও ভবিষ্যতে বড়সড় লক্ষ্মীলাভের সুযোগ রয়েছে।

এই নয়া শ্রম বিধিতে কেবল বেতন নয়, কাজের সময় নিয়েও বড়সড় রদবদল হতে পারে। শোনা যাচ্ছে, সপ্তাহে পাঁচ দিনের বদলে চার দিন কাজের সুযোগ থাকলেও দিনে ১২ ঘণ্টা ডিউটি করার বিধান থাকতে পারে। পাশাপাশি বাৎসরিক ছুটির হিসেবেও মিলবে বড় সুবিধা। যদিও এই সবকিছুর কেন্দ্রে আপাতত ঘোরাফেরা করছে সেই ‘টেক হোম স্যালারি’ কমে যাওয়ার চিন্তা।

ইতিমধ্যেই অনেক সংস্থা নতুন অর্থবর্ষ থেকে এই পরিকাঠামো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে মধ্যবিত্তের ভাঁড়ারে টান পড়লে তার প্রভাব বাজারেও পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। পকেটে টান রেখে আগামীর সঞ্চয় বাড়ানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সরকারি বিধিনিষেধের গেরোয় চাকুরিজীবীদের জীবন যে বড়সড় বদলের সামনে দাঁড়িয়ে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।