গ্র্যাচুইটি নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে?অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আগেই বেশ কয়েকটি কর্মচারী ইউনিয়ন ও পেনশনভোগীদের সংগঠন গ্র্যাচুইটি নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। মিন্ট-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্র্যাচুইটির সীমা বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং কর্মচারীর মৃত্যুর পর প্রদত্ত সুবিধা বাড়ান।
গ্র্যাচুইটির বর্তমান নিয়মকানুন কী?
সরকারি কর্মচারীরা পাঁচ বছরের চাকরি জীবন পূর্ণ করার পর অবসর গ্রহণ করলে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকারী হন। কোনও সরকারি কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরিবার গ্র্যাচুইটি পেয়ে থাকে। আসুন, বর্তমান নিয়মকানুনগুলো জেনে নিয়ে টাকার পরিমাণ গণনা করা যাক।
কর্মচারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কী কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?
প্রথমেই, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজারস অ্যাসোসিয়েশন (IRSTA)-এর প্রস্তাবটি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের স্মারকলিপিতে জানিয়েছে, 'অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি অবসর গ্রহণের তারিখে প্রাপ্ত মাসিক বেতন ও মহার্ঘ ভাতার এক-তৃতীয়াংশ হারে, প্রতি ছয় মাস অন্তর গণনা করা উচিত। ৩৩ বছর বা তার বেশি সময় ধরে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে, প্রদেয় অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি হবে মাসিক বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ৩২ গুণ, যার সর্বোচ্চ সীমা হবে ৫০ লক্ষ টাকা।'
মৃত্যুকালীন গ্র্যাচুইটি বিষয়ে রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন কী প্রস্তাব দিয়েছে?
রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, মৃত্যুজনিত গ্র্যাচুইটির পরিমাণ, যা ৫০ লক্ষ টাকায় সীমিত, তা কর্মচারীর নিম্নোক্ত মোট বৈধ চাকরির মেয়াদের উপর নির্ভর করা উচিত। বিষয়টা নিম্নরূপ-
-এক বছরের কম: মূল বেতনের ৪ গুণ
-এক বছর বা তার বেশি কিন্তু ৫ বছরের কম: মূল বেতনের ১২ গুণ
-৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১১ বছরের কম: মূল বেতনের ২৪ গুণ
-১১ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম: মূল বেতনের ৩০ গুণ
-২০ বছর বা তার বেশি: চাকরির প্রতি ৬ মাসের জন্য পারিশ্রমিকের অর্ধেক, যা সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ৫০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।
রেলওয়ে প্রবীণ নাগরিক কল্যাণ সমিতি (RSCWS)-এর জন্য গ্র্যাচুইটি প্রস্তাব
রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (আরএসসিডব্লিউএস) গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা নিয়মিত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটি তার স্মারকলিপিতে বলেছে, 'ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে সময়ে সময়ে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা পর্যালোচনা করা উচিত। কর্মচারীর অবসর গ্রহণের সময় কোনও বিলম্ব ছাড়াই অবিলম্বে গ্র্যাচুইটি প্রদান করা উচিত। এছাড়াও, পুরন পেনশন স্কিম (OPD), নতুন পেনশন স্কিম (NPS) এবং একীভূত পেনশন স্কিম (UPS)-এর অধীনে গ্র্যাচুইটি যৌক্তিকীকরণ করা উচিত।'
গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি
আরেকটি কর্মচারী সংগঠন, এনসি-জেসিএম (ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভমেশিনারি)-এর অন্যতম প্রধান দাবি হলো গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা করা এবং মাসিক ৩০ কার্যদিবসের পরিবর্তে ২৫ কার্যদিবসের ভিত্তিতে গণনা করা। অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হলো এনসি-জেসিএম (NC-JCM)। এনসি-জেসিএম (কর্মচারী পক্ষ) আরও দাবি করেছে যে, বেতনের ১৬.৫ গুণের বর্তমান সীমাটি তুলে দেওয়া হোক, যা ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।