সরকারি কর্মচারীদের জন্য দারুণ খবর! সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ২% বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এখন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ডিএ বেড়ে ৬০% হয়েছে। এই বৃদ্ধি এমন এক সময়ে এলো যখন অষ্টম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। এদিকে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ (BPMS) অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ন্যূনতম ৭২,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা মূল বেতন এবং ৪.০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিপিএমএস ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর কর্মচারী পক্ষের একটি অনুমোদিত সদস্য।
প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতন কমিশন তার আলোচনা ও পরামর্শ সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের জন্য এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন ২৮ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দিল্লিতে কর্মচারী ইউনিয়ন এবং সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করবে। তবে, কমিশন এত বেশি অনুরোধ পেয়েছে যে এই প্রথম দফায় সমস্ত সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না।
দেশজুড়ে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক সংগঠনগুলো তাদের বিভিন্ন দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন পর্যন্ত নানা ধরনের প্রস্তাব রয়েছে। এই দাবিগুলো সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে যে, কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য আর কোনটি নয়। কর্মচারী সংগঠনগুলোর যুক্তি হলো, দেশের অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী বেতনও বাড়ানো উচিত। তারা বিশ্বাস করে যে, এর মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা তৈরি হবে।
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি
কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি হলো ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। শিক্ষক সংগঠন 'প্রগতিশীল শিক্ষক ন্যায় মঞ্চ' ন্যূনতম মজুরি ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ৬ থেকে ৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিরও দাবি জানিয়েছে। কর্মচারীদের যুক্তি হলো, মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বাড়ছে, তাই আনুপাতিক হারে মজুরি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়াও, তারা একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা যোগ করার দাবি জানাচ্ছে।
ভাতার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে
বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং যাতায়াত ভাতা বাড়িয়ে ন্যূনতম ৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সহায়তা ভাতা, যা কর্মচারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা প্রদান করবে। এছাড়াও উন্নত ছুটি সুবিধা এবং অবসরের পর ছুটি নগদায়নের সীমা বৃদ্ধির দাবিও রয়েছে। সন্তানদের শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিশু শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে।
পুরনো পেনশন ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা
অনেক কর্মচারী সংগঠন মনে করে যে বর্তমান পেনশন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। এছাড়াও, গ্র্যাচুইটির সীমা বৃদ্ধি, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্সের উন্নতি এবং পদোন্নতির প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবি জানানো হয়েছে।
চারগুণ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ (BPMS)-এর পক্ষ থেকে ন্যূনতম বেতন চারগুণ বাড়িয়ে ৭২,০০০ টাকা করার আরেকটি বড় প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এছাড়াও, উচ্চ পদের জন্য সর্বোচ্চ বেতন ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, সব স্তরের বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে।
৭২,০০০ টাকা বেতনের খবরের পেছনের সত্যতা
সম্প্রতি ৭২,০০০ টাকা ন্যূনতম বেতন নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে সত্যিটা হলো, এটি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়। এই অঙ্কটি শুধুমাত্র অনুমান এবং বিভিন্ন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবটি এসেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর পক্ষ থেকে। এই সংস্থাটি ন্যূনতম ৬৯,০০০ টাকা বেসিক স্যালারি এবং ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দাবি করেছে।
এখন পরিস্থিতি কী?
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং কেবল পরামর্শ ও মতামত সংগ্রহ করছে। বেতন, ভাতা বা যোগ্যতা নির্ধারণী বিষয়গুলির উপর এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই, কর্মচারীদের সামাজিক মাধ্যম বা গুজবের উপর নির্ভর না করে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন বেতন বৃদ্ধি এবং ঘোষিত নির্দিষ্ট পরিবর্তনগুলি আগামী মাসগুলিতে স্পষ্ট হয়ে যাবে।