কর্মচারীদের মিনিমাম বেসিক বেতন (Basic Pay) এক লাফে প্রায় ৫১,০০০ টাকা বেড়ে যেতে পারে।8th Pay Commission Latest News: অষ্টম বেতন কমিশন লাগু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কৌতূহল তুঙ্গে। ১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগী মোদী সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ইউনিয়নগুলি সরকারের কাছে তাঁদের দাবিপত্র জমা দেয়। আর তারপর থেকে চর্চা আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি জল্পনা চলছে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (Fitment Factor) বাড়ানো নিয়ে। ইউনিয়নের দাবি মানলে সরকারি কর্মচারীদের মিনিমাম বেসিক বেতন (Basic Pay) এক লাফে প্রায় ৫১,০০০ টাকা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কীভাবে কাজ করে? বিষয়টি সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কী? অতি সহজে বুঝুন
সরকারি কর্মীদের বেতন বা পেনশন কারেকশানের জন্য যে বিশেষ গুণক বা সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, তাকেই বলা হয় 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'। সহজ কথায়, পুরনো মূল বেতনকে নতুন মূল বেতনে রূপান্তর করতে যে সংখ্যা দিয়ে গুণ করা হয়, সেটিই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর।
কীভাবে নতুন বেতন বের করবেন?:
নতুন বেসিক পে = বর্তমান বেসিক পে × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর রয়েছে। এর ফলে মিনিমাম বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল।
ইউনিয়নের দাবি, বেতন বৃদ্ধির হিসেব
অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে কর্মচারী ইউনিয়নগুলির দাবি, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ৩.৮৩ করা হোক। যদি কেন্দ্র এই দাবিতে সবুজ সংকেত দেয়, তবে হিসেবটা দাঁড়াবে এই রকম;
বর্তমান মিনিমাম বেসিক পে: ১৮,০০০ টাকা
যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চাইছেন কর্মীরা: ৩.৮৩
নতুন মিনিমাম বেসিক পে: ১৮,০০০ × ৩.৮৩ = ৬৮,৯৪০ টাকা (প্রায় ৬৯,০০০ টাকা)
অর্থাৎ, সরকারের সম্মতি মিললে মিনিমাম বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৬৯,০০০ টাকা হয়ে যাবে। অর্থাৎ, বেতনে সরাসরি ৫১,০০০ টাকারও বেশি বেড়ে যাবে। শুধু বেসিক পে-ই নয়। এটি বাড়লে ডিএ (DA), এইচআরএ (HRA) এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডও বেড়়ে যাবে।
৯ দফা বৈঠক, কেন্দ্র কি দাবি মানবে?
সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরকার ও কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে নয় দফা বৈঠক হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলির বক্তব্য, গত কয়েক বছরে যথেষ্ট মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে অনেকেরই সংসার টানতে সমস্যা হচ্ছে।সেই আর্থিক চাপ সামলাতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর পুরোপুরি মেনে নেওয়া কেন্দ্রের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। কারণ এতে স্যালারি-বাবদ খরচ এক ধাক্কায় কয়েক হাজার কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে। ফলে দাবিপত্র পর্যালোচনার পর একটি মধ্যপন্থা বা মাঝামাঝি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর স্থির করা হতে পারে। প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার পর তা পৌঁছবে মন্ত্রিগোষ্ঠীর (GoM) টেবিলে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললেই নতুন স্যালারি স্ট্রাকচার কার্যকর হবে।