বহুল আলোচিত ৭২,০০০ টাকা বেতনের অঙ্কটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠিত হয়ে গিয়েছে। এখনও লাগু হয়নি। ১৮ মাসের মধ্যে কমিশন বিস্তারিত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দেবে। তারপর বিচার-বিবেচনা করে, রিপোর্ট খতিয়ে দেখে লাগু করা হবে। এহেন সময়ে কর্মীদের সগঠনের তরফে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কী কী বদল করা যেতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়ানোর দাবি
দিন কয়েক আগে ন্যাশনাল কাউন্সিলের মজদুর সঙ্ঘের তরফে প্রস্তাব করা হয়েছে, অষ্টম বেতন কমিশনে কর্মীদের ন্যূনত মাইনে ১৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯ হাজার করা হোক। এর সঙ্গে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ করা হোক। কিন্তু সম্প্রতি খবর পাওয়া যাচ্ছে, ৬৯ হাজার নয়, ৭২ হাজার টাকা করা হোক ন্যূনতম বেতন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৪.০ হোক।
৭২ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন হবে?
ইন্ডিয়া টুডে-কে এক সূত্র জানিয়েছে, এটি সরকারিভাবে দাবিকৃত পরিমাণ নয়। অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি সংস্থা এনসি-জেসিএম শুধুমাত্র ন্যূনতম ৬৯,০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি করেছে। এতে প্রশ্ন ওঠে যে, ৭২,০০০ টাকার দাবিটি কোথা থেকে এল! প্রতিবেদন অনুসারে, এটি অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মনে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট স্তরের কর্মচারীদের জন্য আনুমানিক বেতন প্রায় ৭২,০০০ টাকায় পৌঁছয়, যা তখন একটি মূল অঙ্ক হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা ন্যূনতম মূল বেতনের দাবির সমান নয়।
৭২,০০০ টাকার বেতনের অনুমানটি ভুল
ন্যূনতম বেতনের হিসেব গ্রেড, ভাতা এবং স্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। সুতরাং, ৭২,০০০ টাকা ন্যূনতম বেতন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। এটি হয়তো কেবল একটি জনবিবৃতি, কিন্তু কোনও প্রস্তাব বা সঠিক হিসেব নয়। বর্তমানে সরকার অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে কোনও চূড়ান্ত বেতন কাঠামো ঘোষণা করেনি। কর্মচারী প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিভাগ এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পর সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে এবং যে কোনও বেতন সংশোধন বাস্তবায়নের আগে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
অষ্টম বেতন কমিশন পর্যবেক্ষণকারী লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের এই আনুমানিক বেতনকে সঠিক বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে যে তাদের বেতন ঠিক কতটা বাড়তে পারে।