৮ম বেতন কমিশনের গেজেটে রয়েছে এই ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিধানঅষ্টম বেতন কমিশন গঠন হওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৮ মাস। সুপারিশ জমা করার জন্য কমিশনের হাতে নির্ধারিত ১৮ মাসের মধ্যে আরও ১০ মাস বাকি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য পরিষেবা-সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দিতে হবে কমিশনকে। তবে জোরকদমে কাজ করছে কমিশন। ইতিমধ্যেই ৬-৭ জুলাই ভুবনেশ্বরে এবং ৯-১০ জুলাই কলকাতায় বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
তবে অষ্টম বেতন কমিশনের গেজেটে এমন পাঁচটি বিধান রয়েছে, যা সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বিধানগুলি কী কী? জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমান ভাতার কাঠামো এবং ভাতা পাওয়ার নিয়ম খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা অসংখ্য ভাতাকে সহজ ও যুক্তিসঙ্গত করার জন্য সুপারিশও করা হতে পারে। ফলে শুধু ভাতার পরিমাণই নয়, যোগ্যতার নিয়ম, দাবি করার পদ্ধতি কিংবা একাধিক ভাতা একত্রিত করার মতো পরিবর্তনও আসতে পারে।
কমিশনকে বর্তমান বোনাস ব্যবস্থা, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে দেওয়া ইনসেন্টিভ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নতুন ইনসেনটিভ কাঠামো নিয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
এর ফলে ভবিষ্যতে শুধুমাত্র নিয়মিত বেতন সংশোধনের পরিবর্তে কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং নির্দিষ্ট ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনকে ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS) সহ ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এর আওতাভুক্ত কর্মচারীদের মৃত্যু-সহ-অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি যাচাই, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের গেজেটে থাকা যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে কম আলোচনা হচ্ছে তা হল, অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা (CPSU), বেসরকারি খাতে প্রচলিত বেতন কাঠামো, সুযোগ-সুবিধা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
উদ্দেশ্য হল এমন একটি বেতন কাঠামো তৈরি করা, যাতে সরকার দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে পারে, একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলাও বজায় থাকে। এছাড়া কর্মরত কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনকে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে হবে। তবে গেজেটে উল্লেখ রয়েছে, প্রয়োজনে নির্দিষ্ট বিষয়ে কমিশন অন্তর্বর্তী (Interim) রিপোর্টও জমা দিতে পারবে কমিশন। এরফলে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগেই সরকার কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ বা প্রস্তাব নিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ পাবে।