সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখেই সেটা ধরে ফেলা সম্ভব।AC চলছে। কিন্তু ঠাণ্ডা হচ্ছে না। হাওয়া আসছে, কিন্তু সেটায় ঠান্ডা ভাব নেই। সমস্যাটি চেনা লাগছে? আসলে অনেকেই কখনও না কখনও এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনটা হলেই লোকে প্রথমেই ধরে নেয় গ্যাস কমে গিয়েছে। কিন্তু সেটাই হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন? বিষয়টি কিন্তু খুব সহজ। সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখেই সেটা ধরে ফেলা সম্ভব। এর জন্য মেকানিক ডাকারও প্রয়োজন নেই।
ঠান্ডা বাতাস কমে গিয়েছে?
গ্যাস কমে যাওয়া বা লিকেজের প্রথম লক্ষণ হল ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় লাগছে। শুধু জোরে বাতাস আসে। কিন্তু ঠান্ডা হয় না। এর মানে এটাই যে, কুলিং সিস্টেমটি ঠিকমতো কাজ করছে না।
আরেকটি প্রধান লক্ষণ আউটডোর ইউনিট দেখলেই জানতে পারবেন। ভাল করে লক্ষ্য করলেই দেখবেন, আউটডোর ইউনিটের পাইপগুলিতে বরফের মতো জমে আছে। গ্যাসের চাপ পর্যাপ্ত না থাকলেই এমনটা হয়। এমনটা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে এসির ডাক্তার(থুড়ি মেকানিক!) ডাকুন!
বেশি বেশি বিল আসছে
বিদ্যুতের বিল দেখলেই পুরো বিষয়টি বুঝে যাবেন। যদি দেখেন হঠাৎ আপনার আগের চেয়ে বেশি বেশি বিল আসছে, কিন্তু সেভাবে ঠান্ডা হচ্ছে না, তাহলেও কিন্তু সেটি গ্যাস কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। গ্যাস কমে গেলে কম্প্রেসারে আরও বেশি চাপ পড়ে। ফলে আরও বেশি কারেন্ট টানতে শুরু করে।
বাড়িতে এসির গ্যাস কীভাবে টেস্ট করবেন?
এখন প্রশ্ন এটাই যে, বাড়িতে কীভাবে গ্যাস পরীক্ষা করবেন। এসি ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালিয়ে দেখুন। যদি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘর ঠান্ডা না হয়, তাহলে নির্ঘাত কোনও সমস্যা আছে।
উইন্ডো এসির ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা অনেক বেশি সহজ। আপনি পেছনের গ্রিলের কাছের পাইপটি দেখতে পারেন। যদি সেখানে বরফ জমে থাকে বা অতিরিক্ত পানি চুইয়ে পড়ে, তবে এটি গ্যাসের ভারসাম্য ঠিক না থাকার একটি লক্ষণ।
স্প্লিট এসির ক্ষেত্রে আউটডোর ইউনিট ভাল করে খতিয়ে দেখুন। কেমন শব্দ, পাইপের অবস্থা দেখুন। যদি অস্বাভাবিক বেশি শব্দ আসে, সঙ্গে কুলিংও কম হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে মেকানিক ডাকুন।
আজকাল নতুন মডেলের প্রিমিয়াম এসিতে স্মার্ট ফিচারও থাকে। সেক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কুলিং পারফরম্যান্স এবং কোনও সমস্যা থাকলে তা দেখা যায়।
কিছু এসিতে প্রেসার বা গ্যাস সংক্রান্ত Error কোডও দেখা যায়। তবে, সব এসিতে সরাসরি গ্যাসের মাত্রা দেখার সুবিধা থাকে না।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখবেন। কখনই নিজে থেকে আপনার এসিতে গ্যাস ভরার চেষ্টা করবেন না। কেউ কেউ ইউটিউব দেখে নিজেই গ্যাস ভরার চেষ্টা করেন। এটা একেবারেই করবেন না। সবসময় প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানকে দিয়েই এই কাজ করান।