ঘরের সাইজ অনুযায়ী কত টনের এসি লাগাবেন?বৈশাখ আসতে না আসতেই বাংলায় যা গরম পড়েছে, তাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত। দুপুর বেলা ঘরে টেকাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘামের চোটে রাতে ঘুম নেই। তাই এখন অনেকেই ভাবছেন ঘরে একটা এসি (AC) লাগাবেন। কিন্তু দোকানদার আপনাকে দেড় টনের এসি গছিয়ে দিচ্ছে না তো? নাকি এক টনের এসিতেই আপনার ঘর হিমশীতল হয়ে যাবে?
অনেকেই না বুঝে বড় এসি কিনে ফেলেন, আর মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে মাথা ঘুরে যায়। আবার কেউ সস্তায় ছোট এসি কিনে পস্তানি দেন, কারণ সেই এসিতে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডাই হয় না। আপনার ঘরের মাপ অনুযায়ী ঠিক কত টনের এসি কিনলে শান্তি পাবেন আর টাকাও বাঁচবে, তা জেনে নেওয়া খুব দরকার।
১ টন না দেড় টন? বুঝবেন কীভাবে?
এসি কেনার আগে ফিতে দিয়ে আপনার ঘরের মাপটা নিয়ে নিন। ঘরের লম্বা আর চওড়া গুণ করলেই পেয়ে যাবেন কত স্কয়ার ফুট আপনার ঘর। এবার দেখে নিন হিসেবটা:
১০০ স্কয়ার ফুটের কম ঘর: আপনার ঘর যদি ছোট হয়, যেমন ১০ ফুট বাই ১০ ফুট বা তার কম, তবে ১ টনের (1 Ton) এসি আপনার জন্য সেরা। এতেই ঘর খুব তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে এবং কারেন্ট খরচও কম হবে।
১০০ থেকে ১৫০ স্কয়ার ফুট: মাঝারি সাইজের বেডরুমের জন্য ১.২ থেকে ১.৫ টনের (1.5 Ton) এসি দরকার। কলকাতার ভ্যাপসা গরমে দেড় টনের এসি এই মাপের ঘরে খুব আরাম দেয়।
১৫০ থেকে ২৫০ স্কয়ার ফুট: বড় মাস্টার বেডরুম বা বসার ঘরের জন্য অবশ্যই ২ টনের (2 Ton) এসি লাগাতে হবে। এর চেয়ে কম ক্ষমতার এসি লাগালে ঘর ঠান্ডা হতে অনেক সময় নেবে এবং মেশিনের ওপর চাপ পড়বে।
শুধু কি ঘরের মাপ দেখলেই হবে?
না, আরও ৩টি জিনিস খেয়াল রাখা খুব জরুরি। নাহলে ঠিক টনের এসি কিনলেও ঘর ঠান্ডা হবে না:
১. তলার ঘর না উপরের ঘর? আপনার ঘরটা কি একেবারে ছাদের তলায়? সারাদিন রোদে ছাদ গরম হলে কিন্তু আপনার এক টন বেশি ক্ষমতার এসি লাগবে। যেমন ১২০ ফুটের ঘর ছাদের তলায় হলে সেখানে ১ টনের বদলে দেড় টন লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. ঘরে মানুষ কতজন? ঘরে যদি সবসময় ৩-৪ জন বা তার বেশি মানুষ থাকেন, তবে ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে। সেক্ষেত্রেও একটু বেশি পাওয়ারের এসি বাছা উচিত।
৩. রোদের তেজ: ঘরের জানলা দিয়ে কি সরাসরি রোদ আসে? জানলা যদি পশ্চিম দিকে হয়, তবে ঘর বেশি তেতে থাকে। এমন ঘরেও একটু শক্তিশালী এসি প্রয়োজন।
পকেটের খরচ বাঁচানোর টিপস
সবসময় চেষ্টা করবেন ইনভার্টার এসি (Inverter AC) কেনার। এই এসিগুলো ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে নিজের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ইলেকট্রিক বিল অনেক কম আসে। সাধারণ এসির তুলনায় ইনভার্টার এসিতে মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। মনে রাখবেন, এসি কেনার সময় ৫ স্টার রেটিং দেখে কিনলে বিল সবচেয়ে কম আসবে।
সস্তা দেখে ভুল এসি কিনে মাঝরাস্তায় বিপদে পড়বেন না। নিজের ঘরের সাইজ মিলিয়ে আজই ঠিক করে নিন কোন এসিটা আপনার জন্য জুতসই।