কুলারগরম পড়ে গিয়েছে। ফলে হুহু করে বাড়ছে এসি ও এয়ার কুলারের চাহিদা। অনেকের কাছেই এসি কেনার মতো টাকা থাকে না। ফলে তাদের ঝুঁকতে হয় এয়ার কুলারের দিকেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, এয়ার কুলারে কি আদৌ পর্যাপ্ত ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায়?
প্রচণ্ড গরমে, কুলার প্রায়শই কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা হাওয়া দিতে পারে না, ফলে প্রচণ্ড ঘাম হতে থাকে। এতে রাতে কীভাবে শান্তিতে ঘুমানো যায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। যদি আপনার কুলার ঠান্ডা হাওয়া না দেয়, তবে কিছু সহজ ও সরল পদ্ধতি খুব বেশি খরচ ছাড়াই কুলারের ঠান্ডা করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আরামদায়ক পরিবেশ দেয়। কিছু ঘরোয়া কৌশলের মাধ্যমে আপনি আপনার কুলারের বাতাসকে এসির মতোই ঠান্ডা করে তুলতে পারেন।
এর জন্য লাগবে শুধু বরফ এবং নুন। এই দুই জিনিস ব্যবহার করে আপনি আপনার কুলারের হাওয়াকে এসির মতো ঠান্ডা করতে পারেন। শীতলতা বাড়ানোর জন্য এটি সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। এক টুকরো বরফ এবং ৩-৪ মুঠো লবণ নিয়ে কুলারের ট্যাঙ্কে দিন। লবণ বরফ গলার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে জল বেশিক্ষণ ঠান্ডা থাকে। ঠান্ডা জল কুলিং প্যাডের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরো ঘরে আরও বেশি ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেয়।
বেশিরভাগ মানুষ কুলার চলার সময় ঘর পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, যা আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয় এবং শীতলতা রোধ করে। সঠিক পদ্ধতি হল কুলারের বিপরীত দিকে একটি জানালা বা দরজা সামান্য খোলা রাখা, যাতে গরম বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে এবং ঠান্ডা বাতাস পুরো ঘরে অবাধে চলাচল করতে পারে। এই প্রক্রিয়াটিকে ক্রস-ভেন্টিলেশন বলা হয়, যা শীতলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
কুলারের কুলিং প্যাডগুলোর সঠিক যত্ন নিলে ঘোর ঠান্ডা থাকে। প্যাডগুলো পুরোনো, নোংরা বা শুষ্ক হলে, সেগুলো ঠিকমতো জল শোষণ করতে পারে না এবং গরম বাতাস বেরিয়ে আসে। তাই, নির্দিষ্ট সময় পর পর প্যাডগুলো পরিষ্কার করা বা প্রয়োজনে বদলে ফেলা জরুরি। এছাড়াও, প্যাডগুলোকে সামান্য ভেজা কাপড় বা পাটের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখলে শীতলতার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। কুলারটি সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে ছায়ায় রাখুন। এতেও শীতলতা আরও বাড়বে।