
কামাখ্যাগুড়ি এক্সপ্রেস।-ফাইল ছবিঅমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের হাত ধরে আমূল বদলে গেল আলিপুরদুয়ার জেলার কামাখ্যাগুড়ি রেলস্টেশন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন এখন আধুনিক পরিকাঠামোয় সজ্জিত। স্টেশন ভবন সম্প্রসারিত হয়েছে, তৈরি হয়েছে বড় পার্কিং এলাকা। যাত্রীদের সুবিধার জন্য নির্মিত হয়েছে ১২ মিটার চওড়া ফুট-ওভার ব্রিজ। পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অপেক্ষালয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে সারা দেশে ১,৩০০-রও বেশি রেলস্টেশন আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১০১টি স্টেশন অন্তর্ভুক্ত। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু স্টেশনের রূপসজ্জা নয়, পরিকাঠামোর সামগ্রিক উন্নয়নই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। যাত্রীসুবিধা বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধী-বান্ধব ব্যবস্থা, উন্নত চলাচল পথ, ডিজিটাল তথ্যপ্রদান ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঐতিহ্য-অনুপ্রাণিত স্থাপত্য, সব মিলিয়ে স্টেশনগুলিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে।

পূর্ব রেল জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০১টি স্টেশনের উন্নয়নে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মহানগরের ব্যস্ত স্টেশন থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী শহর ও জনপ্রিয় তীর্থস্থান-সব ধরনের স্টেশনই এই উন্নয়ন তালিকায় রয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, নিউ জলপাইগুড়ি, খড়গপুর, আসানসোল, ব্যান্ডেল, চন্দননগর, মালদা টাউন, শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, শালিমার ও সাঁতরাগাছির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে কাজ চলছে জোরকদমে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে। প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকার অনুমোদনে সেখানে নতুন টার্মিনাল, এয়ার কনকোর্স এবং উন্নত যাত্রী পরিষেবা গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য, এটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের আধুনিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা। অন্যদিকে, সাঁতরাগাছি স্টেশনে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে একটি মাল্টি-মোডাল হাব, যা হাওড়া স্টেশনের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে। আসানসোল ও শালিমার স্টেশনেও দ্রুত গতিতে উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে।