বিতর্কের মাঝেই E25 আনছে কেন্দ্রE20 পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে শোরগোল। বহু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সাররা দাবি করছেন ইথানল মিশ্রিত এই জ্বালানি ব্যবহারে ক্ষতি হচ্ছে তাঁদের বাইকের। তবে এই বিতর্কে কর্ণপাত করতে রাজি নয় কেন্দ্র। এরইমধ্যে জানা যাচ্ছে, ইথানল নিয়ে লম্বা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে E21 এবং তারপরে ২০২৯ সালের মধ্যে E25 চালু করার বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করছে কেন্দ্র।
একদিকে E20 নিয়ে যখন বিতর্ক রীতিমতো তুঙ্গে। তখন দীর্ঘমেয়াদী ইথানল মিশ্রণের এই পরিকল্পনা নতুন করে অনেকের নজর কেড়েছে। সূত্রের দাবি, সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে E21 পেট্রোল চালুর একটি রূপরেখা নিয়ে পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, ২০২৯ সালের মধ্যে E25 মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে।
সরকারের এই ইথানলের রোডম্যাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল দিয়ে তৈরি E20 পেট্রোল এখন সারাদেশে প্রচলিত জ্বালানি হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে মাইলেজ কমেছে ও গাড়ির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে সরকারের দাবি, অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং ভারতের আখ অর্থনীতিকে সহায়তা করার জন্য ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রের একটি তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল চালু হওয়ায় ভারত বার্ষিক প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সাশ্রয় করতে পেরেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার খরচও প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
দেশে E20 বিতর্ক যখন প্রকট হয়ে উঠেছে, তখন সামনে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। দাবি করা হচ্ছে, দেশে E20 চালুর কয়েক বছর আগেই ২০২১ সালে নীতি আয়োগের রিপোর্টে সরকারের ইথানল মিশ্রণ সংক্রান্ত রোডম্যাপে পুরনো মডেলের গাড়ির ক্ষেত্রে ফুয়েল ইকোনমিক, ই২০-উপযোগী যন্ত্রাংশের প্রয়োজনীয়তা এবং মোটরগাড়ি শিল্পের জন্য ধীরে ধীরে রূপান্তরের বিষয়গুলো স্বীকার করা হয়েছিল।
নীতি আয়োগের রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছিল, E10-এর জন্য ক্যালিব্রেট করা গাড়ি যদি E20 জ্বালানিতে চালানো হয়, সেক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয় প্রায় ৬-৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। বাইকের ক্ষেত্রেও মাইলেজ ৩-৪ শতাংশ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।