Annapurna Scheme form New Update: পরিবারের সব মহিলা কীভাবে পাবেন অন্নপূর্ণার টাকা? বলে দিলেন অগ্নিমিত্রা

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের জন্য যে সমস্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কারা এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারবেন। সাধারণত একটি পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য যদি নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠিগুলো পূরণ করতে পারেন, তবে তাদের আবেদন খারিজ করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।

Advertisement
 পরিবারের সব মহিলা কীভাবে পাবেন অন্নপূর্ণার টাকা? বলে দিলেন অগ্নিমিত্রাঅগ্নিমিত্রা জানালেন সরকারি নিয়ম

উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। আর সেখান থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে  গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য নতুন করে প্রত্যেক মহিলাকেই আবেদন করতে হবে৷ এমন কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদেরও আবেদন করতে হবে। অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও হাজারো কৌতূহল৷ তার মধ্যে অন্যতম হল একই পরিবারের একাধিক মহিলা কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন? কারণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে এই সুবিধা ছিল৷ এই নিয়ে রবিবার উত্তকন্যা থেকে বড় আপডেট দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। 

একটা বাড়িতে একটাই ফর্ম? জানুন  সরকারি নিয়ম
রবিবার  উত্তরকন্য়ায় সাংবাদিক বৈঠক করেন অগ্নিমিত্রা। সেখানেই তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম যাতে কম না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক করেন। সেইসঙ্গে স্পষ্ট বলেন, 'অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম যাতে কম না হয় সেটা সরকার দেখছে। এক একটা পরিবারে একটাই ফর্ম যাবে।' পাশাপাশি জানিয়ে দেন, 'প্রত্যেক মহিলাকে আলাদা ফর্ম নিতে হবে না। কারণ ওই ফর্মের মধ্যে একাধিক অ্যাকাউন্ট দেওয়ার জায়গা রয়েছে। একটা পরিবারের বিভিন্ন মহিলা যেমন শাশুড়ি, বউমা, মেয়ে, ননদ সবাই ওই একটা ফর্মে ফিলাপ করলেই হবে। চারটি আলাদা আলাদা ফর্ম নেওয়ার দরকার নেই।'

সরকারি নির্দেশিকা ও যোগ্যতা 
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের জন্য যে সমস্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কারা এই আর্থিক সহায়তার আওতায় আসতে পারবেন। সাধারণত একটি পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য যদি নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠিগুলো পূরণ করতে পারেন, তবে তাদের আবেদন খারিজ করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। এর পাশাপাশি তাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কোনও পরিবারে যদি শাশুড়ি এবং বৌমা—উভয়েই এই বয়সের সীমারেখার মধ্যে থাকেন এবং অন্যান্য শর্তগুলো মেনে চলেন, তবে তারা দুজনেই আলাদা আলাদা ভাবে আবেদন জানাতে পারেন। অর্থাৎ, একই ছাদের তলায় বসবাস করলেও দুই মহিলারই এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কোনও সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। আবেদন সঠিক থাকলে এবং বাকি সব শর্ত পূরণ হলে অন্নপূর্ণা প্রকল্পেও একই পরিবারের একাধিক মহিলা মাসিক ৩ হাজার টাকা পাবেন৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, পরিবার পিছু নির্দিষ্ট কোনও বিধিনিষেধ নেই, বরং প্রতিটি যোগ্য নারী ব্যক্তিগতভাবে এই সুবিধা পাবেন।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যোগ্য এবং প্রকৃত আবেনকারীদের চিহ্নিত করতে এবং প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছে দিতেই রাজ্য সরকার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য বিশদে সংগ্রহ করছে৷ এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সব পরিবারকে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছে দেওয়া হবে৷ আবেদনকারী সহ পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, তাঁদের পেশা, মোট উপার্জন, জমি, বাড়ির সম্পর্কে তথ্য, বাড়িতে যানবাহন আছে কি না এই ধরনের সব তথ্যই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে চাওয়া হয়েছে৷

বিবাহিত ও অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে নিয়ম
একটি পরিবারে বিভিন্ন সম্পর্কের মহিলারা থাকতে পারেন, যেমন মা, মেয়ে, শাশুড়ি বা পুত্রবধূ। সরকারি নিয়ম অনুসারে, কোনও পরিবারের অবিবাহিত কন্যা, যাঁর বয়স ২৫ বছর পার হয়ে গেছে, তিনিও এই প্রকল্পের জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য। আবার সেই একই পরিবারে যদি তাঁর মা বা বৌদি থাকেন, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। বিবাহিত মহিলারা তাঁদের শ্বশুরবাড়ির ঠিকানায় আবেদন করতে পারেন, আবার যদি কোনও কারণে তাঁরা বাপের বাড়িতে সাময়িকভাবে বসবাস করেন, তবে সেখানকার নথির ভিত্তিতেও প্রক্রিয়াটি চালানো সম্ভব। তবে প্রধান শর্ত এটাই যে, একই পরিবার থেকে যতজন মহিলাই আবেদন করুন না কেন, প্রত্যেকের বয়স এবং পরিচয়পত্রের সত্যতা সরকারি পোর্টালে সঠিকভাবে যাচাই হতে হবে। কোনও ভুয়ো তথ্য বা একটি তথ্য দুই জায়গায় ব্যবহার করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা
এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করেছে। একই পরিবারের দুজন মহিলা যখন আবেদন করবেন, তখন তাদের সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। অনেকে মনে করেন যে পরিবারের একটিমাত্র যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের  মাধ্যমেই দুজনের টাকা চলে আসবে, কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সরকারি নিয়ম অনুসারে, প্রত্যেক আবেদনকারী মহিলার নিজস্ব নামে একটি একক বা সিঙ্গেল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে হবে আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর। যদি দুই মহিলার আলাদা আলাদা সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে আবেদন প্রক্রিয়া মাঝপথেই আটকে যেতে পারে। তাই নথিপত্র জমা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ফর্মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভুল তথ্য দিলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বাতিল হতে পারে। তাই সব তথ্য যাচাই করে তবেই ফর্ম পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফর্মে 'পরিবার' বলতে বোঝানো হয়েছে এমন সদস্যদের, যারা একসঙ্গে থাকেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার খান। অনেকেই ধারণা করছেন, এটা হলে বুঝি যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না। এমনটা কিন্তু নয়, সরকার প্রত্যেক আবেদনকারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রাখতে চান। তাই এই বিস্তারিত আবেদন পত্র। 
 

POST A COMMENT
Advertisement