অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বাতিল, আবার আবেদন করতে পারবেন?

মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্তারিত পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, সারা বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে এই ধাপে চিহ্নিত হয়েছেন ১.৩ কোটিরও বেশি মহিলা।

Advertisement
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বাতিল, আবার আবেদন করতে পারবেন?অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বাতিল হলে কী করবেন?
হাইলাইটস
  • মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য।

১ জুলাই থেকে থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ৩ জুলাই পর্যন্ত বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পের অধীনে নির্ধারিত ৩০০০ টাকা। আর তাতেই হাসি চওড়া হয়েছে বাংলার মা-বোনেদের মুখে মুখে। তবে অনেকের ফর্ম বাতিল হয়েছে বলেও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যাঁদের ফর্ম বাতিল হল, তাঁদের করণীয় কী?

মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্তারিত পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, সারা বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে এই ধাপে চিহ্নিত হয়েছেন ১.৩ কোটিরও বেশি মহিলা। শুভেন্দু অধিকারী জানান, সুবিধাভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির আগে প্রাপ্ত ১.৬ কোটি আবেদনপত্র ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতিতে একাধিকবার যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নাম পোর্টালে তোলার সময় প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনকারী অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

কারা যোগ্য
মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন, যে সকল মহিলা নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ)-এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, সেই সঙ্গে যাঁদের এসআইআর-সংক্রান্ত মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁরাও কিন্তু তাঁদের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধা পেতে থাকবেন। এছাড়াও সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল চালু করবে শীঘ্রই। এই পোর্টালে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক স্তরে সমস্ত সুবিধাভোগীদের নাম থাকবে এই পোর্টালে। যার ফলে জনসাধারণ নিজেরা এলাকার সুবিধাভোগীদের নামের তালিকাগুলি যাচাই করতে পারবেন। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে, তাঁরা এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁদের অভিযোগ জমাও দিতে পারবেন।

অন্নপূর্ণার আবেদন কী কারণে বাতিল?
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে আর্থিক সুবিধা প্রাপকদের উপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ হয় ভারতীয় নন অথবা ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এই তালিকায় মৃত সুবিধাভোগী, অন্যত্র চলে যাওয়া সুবিধাভোগী এবং এমনকি একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন এমন কিছু ব্যক্তিও ছিলেন। এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভারতীয় ছাড়া অন্য কেউ গ্রহণ করতে পারে না। 

Advertisement

কারা পাবেন না এই সুবিধা
আয়কর দেন এমন মহিলারা এই সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া, যেসব মহিলা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। পেনশনভোগী মহিলারাও এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হবেন না।

ফর্ম কেন বাতিল হচ্ছে?
যাদের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হচ্ছে, তার পিছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য যদি ভুল দেওয়া হয় তাহলে অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হয়ে যাবে। যদি ২০২৬ এর এসআইআর-এ নাম বাদ যায়, কিন্তু আবেদনের সময় তা উল্লেখ না করা হয় সেক্ষেত্রেও বাতিল হতে পারে আবেদন। আবেদনকারী ভারতীয় না হলেও ফর্ম ক্যান্সেল হবে।

পুনরায় আবেদন করা যাবে?
রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এই বিষয়ে জানান, যাঁরা যোগ্য তাঁরা যেন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও আবার আবেদন করতে দেরি না করেন। তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হল যাতে কোনও যোগ্য মা-বোন শুধুমাত্র নথিগত ত্রুটির কারণে বঞ্চিত না হন। যাঁদের নথিতে কোনও ভুল রয়েছে, তাঁরা তা সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। তবে এই সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলেই জানাচ্ছে সরকারি সূত্র। পাশাপাশি নতুন আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে। আগামী দু'মাস, অর্থাৎ অগাস্ট পর্যন্ত নতুন করে আবেদনের সুযোগ থাকছে প্রত্যেক যোগ্য মহিলার জন্য। সুতরাং একটু সময় নিয়ে আবেদন করলে আবারও সবাই সুযোগ পাবেন।

POST A COMMENT
Advertisement