অন্নপূর্ণা যোজনারাজ্যে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পরিবর্তন হয়ে তা হয়ে গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে মহিলারা যেখানে ১৫০০ টাকা করে পেত, সেটাই বিজেপি আসার পর ৩০০০ টাকা করে পাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, জয়ী হওয়ার পর সেই কথা রেখেছে বিজেপি। ৩ জুন থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে ৩০০০ টাকা। তবে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে এসেছে বেশ কিছু নিয়মবিধি এবং শর্তাবলী।
বাড়িতে ফোন নম্বর কটা থাকতে হবে
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বেশ কিছু নিয়ম-নীতি চালু করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য সেই তালিকাও বের করেছে বিজেপি সরকার। করের আওতায় যারা পড়েন কিংবা তিনের অধিক ঘর থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না এমনটাই জানা গিয়েছে। অনেকে টাকা পেলেও এখনও অনেকের টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে। তাদের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অঙ্গনওয়ারি কর্মীরা ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু করেছে। তবে যারা টাকা পাননি, তাদের অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বাড়িতে যদি একটি মাত্র ফোন নম্বর থাকে, সেক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপক যদি একের অধিক হন, তাহলে সে ক্ষেত্রে কীভাবে পাওয়া যাবে যোজনার ৩০০০ টাকা। সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে, তা বিস্তারিত জানিয়েছেন সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্রের এক আধিকারিক।
একাধিক মহিলা থাকলেও ফর্ম শুধু একটাই
সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্রের আধিকারিক বলেছেন যে একই বাড়িতে একাধিক অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপক থাকলেও একটি মাত্র ফর্মই ফিলআপ করতে হবে। সেই ফর্মের মধ্যেই বাড়িতে কতজন সদস্য রয়েছে? বাড়িতে প্রধান সদস্য কতজন, এছাড়াও কার কত বয়স সেগুলির সঠিক তথ্য, ফর্ম ফিলআপের সময় লিখতে হবে। ফর্মে সঠিক তথ্য দেওয়া হলে, তারপরে সেখান থেকেই জানা যাবে সঠিক প্রাপক অন্নপূর্ণা যোজনার কতজন রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সেই বাড়িতে। তারপর যাচাইয়ের পরে তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে যোজনার টাকা। এছাড়াও বাড়ির সদস্যদের যে কোনও একটি ফোন নম্বর দিয়েই এই ফর্ম ফিলআপ করা যাবে।
ডিবিটি লিঙ্ক বাধ্যতামূলক
তবে ফোন নম্বর না থাকলেও প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ডিবিটি লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। সেই কারণে যোজনার টাকা পেতে হলে অবশ্যই প্রাপকদের নিজ নিজ ব্যাঙ্কে গিয়ে ডিবিটি লিঙ্ক করা আছে কিনা, তা যাচাই করে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য আগামী অগাস্ট মাস পর্যন্ত নতুন আবেদন করতে পারবেন মহিলারা।
কী কী কারণে বাতিল হতে পারে আবেদন?
রাজ্য জানিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের উপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়, যেখানে দেখা গিয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ উপভোক্তা অভারতীয়, কারও নাম মুছে ফেলা হয়েছে তালিকা থেকে। এই তালিকায় মৃত সুবিধাভোগী, অন্যত্র চলে যাওয়া সুবিধাভোগী এবং এমনকি একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছেন এমন অনেকেই ছিলেন।
কারা পাবেন না অন্নপূর্ণার টাকা
আয়কর দেন এমন মহিলারা এই সুবিধা পাবেন না। যারা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। পেনশনভোগী মহিলারাও এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না।