আয়ুষ্মান ভারত কার্ডআয়ুষ্মান ভারত কার্ড চালু হয়েছে গত ১৬ অগাস্ট থেকে। এটি বাংলায় আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত রাজ্যের ১.৪৩ কোটি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীরা দেশ জুড়ে আয়ুষ্মান ভারতের তালিকাভুক্ত ৩৮,০০০ এরও বেশি হাসপাতালের যে কোনওটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা করতে পারবেন।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে “স্বাস্থ্য সাথি প্রকল্পের অধীনে, এই প্রকল্পের আওতায় থাকা বাংলার ৭,৫০০টি হাসপাতালের যে কোনওটিতে চিকিৎসা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে, ভারতের যে কোনও প্রান্তে তালিকাভুক্ত ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালের যে কোনওটিতে চিকিৎসা নেওয়া যাবে।
আয়ুষ্মান যোজনার পাশাপাশি রাজ্যে একইসঙ্গে চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এটি রাজ্য সরকারের একটি স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন না এমন ব্যক্তিদের জন্য আনা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৮০ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন।
কীভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করবেন?
যাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে, কিন্তু এখনও আয়ুষ্মান ভারতে নাম স্থানান্তরিত হয়নি, তারা তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করেই পেতে পারেন চিকিৎসা। সেক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট করেছে, রাজ্যে আগামী কয়েক মাস স্বাস্থ্য সাথী, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা একযোগে চালানো হবে।
আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচির জন্য যোগ্যতার মানদণ্ড কী?
বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার (SPHH), অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার (PHH) এবং অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)-র রেশন কার্ডধারীরা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন। পরিযায়ী শ্রমিক, গিগ কর্মী, পরিবহন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষেরাও যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন এই প্রকল্পের অধীনে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য যোগ্যতার কোনও সীমাবদ্ধতা থাকবে না। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি যে কেউ আয়ুষ্মান যোজনার আওতায় আসবেন।
কী কী নথি দরকার
য়ুষ্মান কার্ড পেতে সাধারণত যে নথিগুলির প্রয়োজন হয়: আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ঠিকানার প্রমাণ, মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট আকারের ছবি, আয়ের শংসাপত্র (যেখানে প্রয়োজন), পারিবারিক পরিচয়পত্র (রাজ্যভেদে নথিপত্রের তালিকায় সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে)।
তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলির তালিকা কোথায় পাওয়া যাবে?
জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সুবিধাভোগী পোর্টালে (https://hem.nha.gov.in/search) তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। আপনি চাইলে রাজ্য ও জেলা অনুযায়ী হাসপাতাল অনুসন্ধান করতে পারেন।