Pulsar এর এই সস্তার মডেলের বিক্রি বন্ধ করে দিল Bajaj! পাবেন না শোরুমে

মাত্র দু’বছরেই মোহভঙ্গ! ভারতের বাজার থেকে কেন পাততাড়ি গোটাচ্ছে বাজাজ পালসার N125? যা বোঝা জরুরি বাইকপ্রেমীদের।

Advertisement
Pulsar এর এই সস্তার মডেলের বিক্রি বন্ধ করে দিল Bajaj! পাবেন না শোরুমেরতের বাজার থেকে কি পাততাড়ি গোটাচ্ছে বাজাজ পালসার N125?রতের বাজার থেকে কি পাততাড়ি গোটাচ্ছে বাজাজ পালসার N125?
হাইলাইটস
  • ভারতীয় বাইকপ্রেমীদের কাছে ‘পালসার’ (Pulsar) নামটাই একটা আলাদা আবেগ।
  • দেশের যুবপ্রজন্মের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে থেকেছে বাজাজ অটোর এই ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড।
  • স্পোর্টি বাইকটির বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

Bajaj Pulsar N125 discontinued: ভারতীয় বাইকপ্রেমীদের কাছে ‘পালসার’ (Pulsar) নামটাই একটা আলাদা আবেগ। গত দু’দশক ধরে দেশের যুবপ্রজন্মের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে থেকেছে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)-র এই ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড। কিন্তু সব মডেল যে বাজারে সমান সাফল্য পাবে, এমনটা নয়। অটোমোবাইল বাজারের সাম্প্রতিক গুঞ্জন সত্যি হলে, এবার অত্যন্ত নিঃশব্দে ভারতীয় লাইনআপ থেকে বাদ পড়তে চলেছে নিউ জেন ‘বাজাজ পালসার N125’ (Bajaj Pulsar N125)। সূত্রের খবর, শোরুমগুলিতে এই বাইকের বিক্রি এবং চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পুনের এই টু-হুইলার নির্মাতা সংস্থা। যদিও বাজাজের তরফে এখনও অফিশিয়ালি কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে দেশের একাধিক বড় ডিলারশিপ ইতিমধ্যেই এই ১২৫ সিসির স্পোর্টি বাইকটির বুকিং নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

কেন ব্যর্থ হল পালসার N125?
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই বাজারে আনা হয়েছিল পালসার N125-কে। আকর্ষণীয় লুক এবং কম ওজনের কারণে এটিকে পালসার সিরিজের অন্যতম আধুনিক বাইক হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মাথাতেই কেন এই মডেলটি বন্ধের মুখে? অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূলত দু’টি কারণ রয়েছে:

১) ডিজাইন?: ট্র্যাডিশনাল বা চিরাচরিত পালসার বলতে ভারতীয় ক্রেতারা যে চওড়া, পেশিবহুল এবং ভারী মাসকুলার ডিজাইন দেখতে অভ্যস্ত, N125-এর ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই বাইকটি তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ নতুন একটি লাইটওয়েট প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে। ওজন ছিল মাত্র ১২৫ কেজি। পালসারের চেনা ‘কমিউটার’ লুকের বদলে অতিরিক্ত স্পোর্টি এবং স্লিম লুকটি সাধারণ পালসারপ্রেমীরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি।

২) তীব্র প্রতিযোগিতা: ১২৫ সিসির প্রিমিয়াম সেগমেন্টে হিরো এক্সট্রিম ১২৫আর (Hero Xtreme 125R) এবং হন্ডা সিবি ১২৫ হর্নেট (Honda CB125 Hornet)-এর মতো প্রতিদ্বন্দীরা বাজারে আসার পর পালসার N125-এর রাস্তা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। লুক এবং রোডের উপস্থিতির (Road Presence) দিক থেকে প্রতিপক্ষরা অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

Advertisement

পাওয়ারফুল ইঞ্জিন, প্রিমিয়াম ফিচার্স
অথচ পারফরম্যান্সের দিক থেকে এই বাইকে কোনও খামতি রাখেনি বাজাজ। এতে ছিল এই সেগমেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ১২5 সিসির ইঞ্জিন, যা থেকে ১২ পিএস (PS) পাওয়ার এবং ১১ এনএম (Nm) টর্ক উৎপন্ন হতো। ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের এই বাইকটি ০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ক্লাসের অন্যতম সেরা ও দ্রুততম ছিল।

ফিচারের দিক থেকেও বাইকটি ছিল ঠাসা। এতে দেওয়া হয়েছিল স্প্লিট-সিট সেটআপ, টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক, রিয়ার মোনোশক সাসপেনশন এবং অ্যালয় হুইল। ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোলের সঙ্গে ছিল ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, যার মাধ্যমে রাইডাররা কল অ্যালার্ট, মেসেজ নোটিফিকেশন, মাইলেজ ডেটা এবং ইউএসবি চার্জিংয়ের সুবিধা পেতেন। ভারতের বাজারে এর এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছিল ৯২,২৭০ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও থাকছে
ভারতে বিক্রি বন্ধের খবর চাউর হলেও, বাজাজ কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বাজারে এই পালসার N125-এর রফতানি ও বিক্রি জারি রাখছে। এমনকি বাইক মহলে ফিসফাস, সম্পূর্ণ নতুন রূপ ও মেকওভার নিয়ে ২০২৭ সালে ফের ভারতের বাজারে কামব্যাক করতে পারে এই মডেল।

আসলে ভারতের বাজারে পালসার ২২০এফ (Pulsar 220F), পালসার এনএস (NS) সিরিজ কিংবা আইকনিক ক্লাসিক ভ্যারিয়েন্টগুলি বছরের পর বছর ধরে যেভাবে দাপট দেখিয়েছে, N125 তা ধরে রাখতে পারেনি। তবে স্বস্তির বিষয়, বাজাজের নতুন এন-সিরিজের বড় ভাই অর্থাৎ ‘পালসার N160’ কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতের বাজারে দেদার বিকোচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement