এই রেঞ্জের ক্রেতাদের এমন বাইক চাই, যেখানে মাইলেজ ভালো, রক্ষণাবেক্ষণ কম এবং লুকও আকর্ষণীয়।Best Bikes Under 1.5 Lakh: ভারতে মোটরসাইকেল কেনার সময় অনেকেই প্রথমে বাজেট ঠিক করে নেন। তার পর শুরু হয় পছন্দের বাইক খোঁজার পালা। কিন্তু ১.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে এমন একটি বাইক বেছে নেওয়া বেশ কঠিন, যেখানে একসঙ্গে ভাল মাইলেজ, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, আর দেখতে সুন্দর ডিজাইন পাওয়া যাবে। কেউ বাইক চান মূলত অফিস যাতায়াতের জন্য, আবার কেউ চান সপ্তাহান্তে একটু দূরে ঘুরতে যাওয়ার মতো পারফরম্যান্স। এই বাজেটে তাই শুধু ইঞ্জিনের ক্ষমতা দেখলেই হবে না। মাইলেজ, আরাম, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, ফিচার এবং সার্ভিসিংয়ের সুবিধা; সব দিকই বিচার করা দরকার। ভারতের বাজারে এই দামের মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিচিত মডেল রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি বাইক ক্রেতাদের কাছে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়।
১. Hero Splendor Plus
কম খরচে প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য ভারতের অন্যতম পরিচিত নাম Hero Splendor Plus। দীর্ঘদিন ধরে কমিউটার বাইকের বাজারে এই মডেলের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
৯৭.২ সিসি ইঞ্জিনের এই মোটরসাইকেল মূলত শহরের রাস্তায় নিয়মিত ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি। ভাল মাইলেজ এবং তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এর অন্যতম বড় আকর্ষণ। যাঁরা প্রথম বার বাইক কিনছেন, তাঁদের কাছেও এটি সহজে চালানো যায়।
অফিস, বাজার বা প্রতিদিনের ছোট দূরত্বের যাতায়াতের জন্য তাই Splendor Plus এখনও অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে।
২. Honda Shine 125
১২৫ সিসি বাইকের মধ্যে Honda Shine দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য একটি নাম। যাঁরা খুব বেশি স্পোর্টি বাইক না চেয়ে আরামদায়ক এবং মসৃণ ভাবে চলার মতো মোটরসাইকেল খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই মডেলটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এর ইঞ্জিনের স্মুথ পারফরম্যান্স এবং ভাল মাইলেজ দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা দেয়। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নিয়মিত যাতায়াতের পাশাপাশি মাঝারি দূরত্বের যাত্রাতেও এটি ব্যবহার করা যায়।
অর্থাৎ, কমফোর্ট এবং পারফরম্যান্স; দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য চান এমন ক্রেতাদের জন্য Honda Shine 125 একটি সম্ভাব্য বিকল্প।
৩. Bajaj Pulsar 125
যাঁদের কমিউটার বাইকের পাশাপাশি একটু স্পোর্টি ডিজাইনও পছন্দ, তাঁদের নজরে থাকতে পারে Bajaj Pulsar 125। Pulsar সিরিজের পরিচিত আগ্রাসী নকশার ছাপ এই বাইকেও রয়েছে।
১২৫ সিসি ইঞ্জিনের সঙ্গে আকর্ষণীয় ডিজাইন একে তরুণ ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় করেছে। শহরের রাস্তায় দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি হাইওয়েতে মাঝারি দূরত্বের রাইডেও বাইকটি ব্যবহার করা যায়।
মাইলেজের পাশাপাশি বাইকের লুক এবং রাইডিংয়ের অনুভূতিকেও যদি গুরুত্ব দেন, তা হলে Pulsar 125 আপনার পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে।
৪. TVS Raider 125
বর্তমান প্রজন্মের রাইডারদের মধ্যে TVS Raider 125 বেশ পরিচিত নাম। সাধারণ কমিউটার বাইকের চেহারা থেকে কিছুটা আলাদা ডিজাইন এবং আধুনিক ফিচারের কারণে এটি বিশেষ করে তরুণদের আকর্ষণ করে।
ডিজিটাল ডিসপ্লে, স্টাইলিশ ডিজাইন এবং ১২৫ সিসি ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স; সব মিলিয়ে বাইকটি দৈনন্দিন ব্যবহারের সঙ্গে আধুনিকতার একটা মিশেল তৈরি করে।
যাঁরা শুধু মাইলেজ নয়, বাইকের চেহারা এবং আধুনিক ফিচারকেও সমান গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে TVS Raider 125 ভাল বিকল্প হতে পারে।
৫. Hero Glamour XTEC
প্রযুক্তি ও কমিউটার বাইকের মিশ্রণ চান? তা হলে Hero Glamour XTEC দেখতে পারেন। এই বাইকে সাধারণ দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একাধিক স্মার্ট ফিচার যোগ করা হয়েছে।
ডিজিটাল কনসোল এবং Bluetooth কানেক্টিভিটির মতো সুবিধা বাইকটিকে প্রচলিত কমিউটার মডেলের তুলনায় কিছুটা আলাদা করে। একই সঙ্গে ভাল মাইলেজ এবং ব্যবহারিক পারফরম্যান্সের দিকেও নজর রাখা হয়েছে।
যাঁরা প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য বাইক কিনবেন, কিন্তু পুরনো ধাঁচের সাধারণ মডেলের বদলে কিছুটা বেশি প্রযুক্তি চান, তাঁদের জন্য Glamour XTEC বিবেচনা করা যেতে পারে।
১.৫ লক্ষ টাকার বাজেটে বাইক কেনার সময় কী দেখবেন?
এই বাজেটে মোটরসাইকেল কেনার আগে শুধু বাইকের দাম দেখলে চলবে না। প্রথমেই দেখতে হবে আপনার ব্যবহার কেমন। প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতের জন্য বাইক হলে মাইলেজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে, নিয়মিত হাইওয়ে বা লং রাইড করলে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স এবং কমফোর্টও গুরুত্ব পাবে।
সার্ভিস সেন্টার কতটা সহজে পাওয়া যায়, স্পেয়ার পার্টসের দাম কেমন এবং নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে কত টাকা খরচ হতে পারে; এই বিষয়গুলিও আগে জেনে নেওয়া ভাল।
কোন বাইক আপনার জন্য সেরা হবে?
এক কথায় উত্তর দিতে গেলে, পছন্দটা নির্ভর করবে ব্যবহারের উপর। কম খরচে দৈনন্দিন যাতায়াত চাইলে Hero Splendor Plus, ১২৫ সিসিতে ভারসাম্যপূর্ণ বাইক চাইলে Honda Shine 125, স্পোর্টি ডিজাইন পছন্দ হলে Bajaj Pulsar 125, আধুনিক লুক ও ফিচার চাইলে TVS Raider 125 এবং স্মার্ট ফিচারের সঙ্গে কমিউটার বাইক চাইলে Hero Glamour XTEC বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে বাইক কেনার আগে নিজের বাজেটের পাশাপাশি ইনস্যুরেন্স, রেজিস্ট্রেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানির খরচও হিসাব করা জরুরি। কারণ শুধু কেনার সময়ের দাম নয়, বাইকটি চালাতে প্রতি মাসে কত খরচ হবে, সেটিও দীর্ঘমেয়াদে বড় বিষয়।