Gold Price: দাম কমছে, ধনতেরাসে সোনা-রুপো কিনে ফেঁসে গেলেন? রাখবেন না বেচবেন, জানুন

সোনা এবং রুপোর দামে পতন দেখে অনেকেই মনে করছেন শুভ দিন মনে করে বেশি টাকা দিয়ে কেনা জিনিস কি তবে লোকসান ডেকে আনবে? আরও পতন কী করা উচিত?

Advertisement
দাম কমছে, ধনতেরাসে সোনা-রুপো কিনে ফেঁসে গেলেন? রাখবেন না বেচবেন, জানুনসোনা কিনবেন না বেচবেন
হাইলাইটস
  • ধনতেরাসে সোনা-রুপো কিনে ফেঁসে গিয়েছেন?
  • বড়সড় পতন সোনা ও রুপোর দামে
  • রেখে দেবেন না বেচে দেবেন?

ধনতেরাসে সোনা কেনা আজকাল একটি ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে বাঙালিদের জন্যও। জানা যাচ্ছে, চলতি বছর রাজ্য তথা গোটা দেশেই সোনা এবং রুপোর বিক্রি বেড়েছে। গয়নার দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সর্বত্রই রেকর্ড সোনা-রুপো বিক্রি হয়েছে।  বিশেষ করে বেড়েছে রুপোর বিক্রি। সোনার দাম আকাশছোঁয়া হওয়া সত্ত্বেও বিক্রি মোটে কমেনি। এদিকে, দীপাবলির দিন থেকে সোনা-রুপোর দাম পড়তে শুরু করেছে। ফলে সম্প্রতি যারা বহুমূল্য সোনা কিনে ফেলেছেন, তারা এখন চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন। সোনা রেখে দেবেন না বেচে দেবেন? 

কেন কমছে সোনা-রুপোর দাম?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দাম পড় যাওয়ার নেপথ্যে বিশ্বব্যাপী এবং ঘরোয়া, দু'রকমের কারণই রয়েছে। ডলার ইনডেক্স মজবুত হয়েছে, ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গোল্ড মার্কেট থেকে পয়সা বের করে ফেলছেন। চাহিদা কম থাকা এবং প্রফিট বুকিংয়ের কারণেও দাম পড়েছে। 

ধনতেরাস এবং দীপাবলির পর চাহিদা কমে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ধনতেরাসে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ল২৭ হাজার (প্রতি ১০ গ্রাম), সেখানে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৩ হাজার। রুপোর দাম ধনতেরাসের সময়ে ছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা (কেজি প্রতি) পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। এখন রুপোর দাম (কেজি প্রতি) ১ লক্ষ ৫০ হাজারে নেমে গিয়েছে। 

অনেকেই আশঙ্কা করে বলছেন, শুভ দিন দেখে সোনা কিনেছিলেন। কিন্তু হু হু করে দাম কমায়ে বড় লোকসান হয়ে যাবে। 

সোনা এবং রুপোর দাম যে হারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, তাতে একটা ব্রেকের দরকার ছিল। কিছু লোক মুনাফা ঘরে তুলছেন, কারণ গত এক বছরে সোনা প্রায় ৬০% মূল্যবান হয়েছে। অতএব যদি বেশি টাকা দিয়েই সোনা কিনে থাকেন তাহলে তার কী করণীয়?

প্রথমত, ধনতেরাসে কেনা সোনা-রুপো তাড়াহুড়োতে বিক্রি করার চেষ্টা করবেন না। সোনার প্রতি মানুষের একটা ভাবাবেগ থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর দামও বাড়ে, কমে না। ইতিহাস বলছে, প্রত্যেকবার যখনই বড়সড় পতন হয় তারপর বিরাট কামব্যাক করে সোনা। ফলে যদি বড় বিনিয়োগ করে থাকেন তবে হটকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না। সোনা দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ। 

Advertisement

২০২০ সালের কোভিড পর্বের পর সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৫০ হাজার পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। কিন্তু পরের বছরই ৬০ হাজার টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল প্রতি ১০ গ্রামের দাম। ২০১৩-১৪ সালেও ডলার শক্তিশালী হওয়ায় সোনার দাম পড়ে গিয়েছিল। তবে ৩ বছরের মধ্যেই দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। 

ফলে যে বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদের কথা ভাবছেন, তার জন্য সোনার দাম পড়া চিন্তার কারণ নয়। বরং সুযোগের সদ্ব্যবহার করার সময়। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, যদি সোনা প্রয়োজনীয় কারণে নয়স বিনিয়োগের জন্য কিনে থাকেন তবে কমপক্ষে ১-২ বছর পর্যন্ত সামলে রাখুন। সোনা-রুপোর দাম আরও পড়লে কেনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ভবিষ্যতে সশরীরে সোনা কেনার বদলে ডিজিটাল বা পেপার গোল্ডে বিনিয়োগ করা সুরক্ষিত বলেই মনে করা হচ্ছে। 

সোনার থেকেও রুপোর দাম হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে সোনা আবারও শিখরে পৌঁছবে। গত ১০ বছরে সোনা ৯ থেকে ১০% রিটার্ন দিয়েছে। সেখানে শেয়ার বাজার বা অন্য বিনিয়োগ এতটা স্থিতিশীল হয়নি। ফলত, সোনার দর পড়ে যাওয়া চিন্তার বিষয় নয়। যে টাকা দিয়েই কিনে থাকুন না কেন, কম করে ২ বছর সোনা ধরে রাখুন। 

 

POST A COMMENT
Advertisement