Budget 2026: বাজেটে স্বামী-স্ত্রীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি, লাগু হলেই 'খেলা হবে'

বাজেট ২০২৬ পেশ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই মধ্যবিত্ত থেকে করদাতা, সবারই নজর এখন অর্থমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন, তার দিকে। গত বাজেটে আয়কর ছাড়ের সীমা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে সরকার অনেককেই চমকে দিয়েছিল। এবার শোনা যাচ্ছে, আরও বড় চমক আসতে পারে, বিশেষ করে বিবাহিত করদাতাদের জন্য। আলোচনায় রয়েছে তথাকথিত যৌথ কর ব্যবস্থা (Joint Taxation)।

Advertisement
বাজেটে স্বামী-স্ত্রীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার দাবি, লাগু হলেই 'খেলা হবে'প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • বাজেট ২০২৬ পেশ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।
  • তাই মধ্যবিত্ত থেকে করদাতা, সবারই নজর এখন অর্থমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন, তার দিকে।

বাজেট ২০২৬ পেশ হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই মধ্যবিত্ত থেকে করদাতা, সবারই নজর এখন অর্থমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন, তার দিকে। গত বাজেটে আয়কর ছাড়ের সীমা ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে সরকার অনেককেই চমকে দিয়েছিল। এবার শোনা যাচ্ছে, আরও বড় চমক আসতে পারে, বিশেষ করে বিবাহিত করদাতাদের জন্য। আলোচনায় রয়েছে তথাকথিত যৌথ কর ব্যবস্থা (Joint Taxation)।

যৌথ কর ব্যবস্থা কী?
সহজ ভাষায় বললে, যৌথ কর ব্যবস্থা হল বিবাহিত দম্পতিদের জন্য আয়করের একটি আলাদা কাঠামো। বর্তমানে ভারতের কর ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ, স্বামী ও স্ত্রী আলাদা প্যান কার্ডে আলাদা করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন এবং নিজেদের আয়ের ভিত্তিতে কর দেন। পরিবার বা দম্পতি হিসেবে কোনও সরাসরি করছাড়ের সুবিধা নেই।

যদি বাজেটে যৌথ কর ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত আয়ের উপর কর নির্ধারণ করা হতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ভারতের আয়কর কাঠামোয় সবচেয়ে বড় সংস্কারগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই পরিবর্তনের দাবি উঠছে?
বর্তমান ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা ভোগ করেন একক আয়ের পরিবারগুলি। ধরুন, স্বামী বা স্ত্রী, দু’জনের মধ্যে কেবল একজন উপার্জন করেন। সে ক্ষেত্রে অন্যজনের মৌলিক করছাড়ের সুবিধা কার্যত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পুরো পরিবারের করের বোঝা গিয়ে পড়ে একজনের আয়ের উপরেই।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির জন্য এটি বড় সমস্যা। একজন কর্মহীন থাকলেও তার জন্য কোনও করছাড় পাওয়া যায় না। ফলে বহু পরিবার তুলনামূলক বেশি কর দিতে বাধ্য হয়।

যৌথ কর চালু হলে কী সুবিধা হতে পারে?
যৌথ কর ব্যবস্থা চালু হলে স্বামী-স্ত্রীর সম্মিলিত আয় কর স্ল্যাবে ভাগ করে দেখা যেতে পারে। এতে কর স্ল্যাবের সুবিধা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। মৌলিক করছাড়ের সীমা কার্যত বাড়বে। গৃহঋণ, স্বাস্থ্য বিমা, চিকিৎসা খরচের মতো বিভিন্ন ছাড় পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে।

Advertisement

এছাড়া, উভয়েই উপার্জনকারী হলে আলাদা আলাদা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। সারচার্জের ক্ষেত্রেও বড় স্বস্তি মিলতে পারে। বর্তমানে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি আয়ে সারচার্জ বসে। যৌথ করের ক্ষেত্রে এই সীমা ৭৫ লক্ষ বা তারও বেশি করা হলে উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির করের চাপ অনেকটাই কমবে।

বিদেশে কীভাবে হয়?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি-সহ একাধিক দেশে পরিবারকে একটি অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে ধরে কর নির্ধারণ করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা বলছে, এতে কর ব্যবস্থা আরও ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত হয়।

সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-এ যদি সরকার সত্যিই বিবাহিতদের জন্য যৌথ কর ব্যবস্থা চালু করে, তবে তা শুধু করদাতাদের জন্যই নয়,ভারতের কর কাঠামোর ক্ষেত্রেও এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হয়ে উঠতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement