বাজেট প্রবীণ নাগরিকরা ৫০% ছাড় পাবেন?Budget 2026 Expectation: প্রয়োজনের কারণে বয়স্ক নাগরিকদের রেল ভ্রমণ করতে হয়। কেউ চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ করেন, কেউ সন্তানদের দেখতে যান, আবার কেউ তীর্থযাত্রায় যান। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে, বয়স্ক ভ্রমণকারীদের একটাই প্রশ্ন, রেলের টিকিটের সেই পুরনো ছাড় কোথায় গেল? এখন, ২০২৬ সালের বাজেটের আগে, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আবারও তীব্র হয়েছে। রেলওয়ে এবং অর্থ মন্ত্রকের সূত্র অনুসারে, বয়স্ক নাগরিকদের জন্য পুরনো কনসেশন স্কিমের বিকল্পগুলি বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, বাজেটের আগে এই ধরনের আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
কবে থেকে প্রবীণ নাগরিকরা রেলওয়েতে ছাড় পেতে শুরু করেছেন?
ভারতীয় রেলওয়ে কয়েক দশক ধরে প্রবীণ নাগরিকদের টিকিট ভাড়ায় সরাসরি ছাড় দিয়ে এসেছে। এই স্কিমটি দেশের পুরনো সামাজিক সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হত।
এই ছাড় স্লিপার, থার্ড এসি, সেকেন্ড এসি এবং ফার্স্ট এসি সহ প্রায় সকল শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য ছিল। টিকিট বুকিংয়ের জন্য কেবল বয়স উল্লেখ করতে হত—কোনও আলাদা কার্ড, সার্টিফিকেট বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছিল না। এই সুবিধা IRCTC অনলাইন টিকিট কাউন্টার এবং রেলওয়ে কাউন্টার উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।
কখন এবং কেন এই ছাড় বন্ধ করা হয়েছিল?
সেই সময়ে যুক্তি ছিল যে রেলওয়ে ইতিমধ্যেই ভর্তুকির উপর চলছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ছাড়ের খরচ বার্ষিক ১,৬০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা। মহামারির পরে আর্থিক ভারসাম্য অগ্রাধিকার পায়। তবে সমস্যা ছিল যে মহামারি শেষ হওয়া, পূর্ণ ক্ষমতায় ট্রেন চলাচল এবং ভাড়া বৃদ্ধি সত্ত্বেও, এই ছাড় ফেরান হয়নি।
ছাড় ফিরিয়ে আনার দাবি তীব্র হয়েছে
গত দুই বছরে, এই বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা তীব্র হয়েছে। কারণগুলি স্পষ্ট, মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন সীমিত। চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলের ভাড়া সরাসরি নাও বাড়লেও,ডায়নেমিক ভাড়া, ক্যাটারিং চার্জ, রিজার্ভেশন ফি এবং সুপারফাস্ট চার্জ ভ্রমণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। এই কারণেই প্রবীণ নাগরিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, সাংসদ এবং জনপ্রতিনিধিরা এখন ক্রমাগত দাবি করছেন যে সরকার অন্তত বয়স্ক ভ্রমণকারীদের জন্য ফের ছাড় ফিরিয়ে আনুক।
২০২৬ সালের বাজেটে কি সম্ভব?
সূত্র মতে, সরকারের সামনে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিকল্প খোলা আছে, যেমন পুর নো ছাড় স্কিমাটি ফিরিয়ে আনা অথবা আংশিক ছাড় (যেমন, ৩০-৪০%) প্রদান করা। শুধুমাত্র স্লিপার এবং সাধারণ শ্রেণির ভাড়ায় ছাড় দেওয়া, অথবা বছরে সীমিত সংখ্যক ভ্রমণের মধ্যে ছাড় দেওয়া। এই সিদ্ধান্তটি কেবল আর্থিকভাবে নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও রেলওয়ের জন্য সংবেদনশীল, কারণ দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রেলওয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ কী?
রেলওয়ের যুক্তি হলো টিকিট ছাড়ের ফলে সরাসরি রাজস্ব ক্ষতি হয়। রেলওয়ে ইতিমধ্যেই অনেক পরিষেবায় ভর্তুকি দেয়। ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং নিরাপত্তার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে, এটাও সত্য যে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ছাড় রেলওয়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে় আসছে।
বয়স্কদের জন্য প্রস্তুতি
বয়স্ক নাগরিকদের জন্য টিকিট ছাড় কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং সম্মান এবং সমর্থনের প্রতীক। ২০২৬ সালের বাজেটে সরকার যদি এই দিকে কোনও পদক্ষেপ নেয়, তা সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনা হোক বা সীমিত ছাড়, লক্ষ লক্ষ বয়স্ক ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি হবে। সকলের দৃষ্টি এখন ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এর দিকে।