অনেকেই ভাবেন গ্রামের বাড়িতেও নাম তোলা হবে, আবার কর্মস্থলের শহরেও আলাদা করে তথ্য দিতে হবে। Census Rules In India: চাকরির জন্য ভিন্রাজ্য বা অন্য শহরে থাকেন? তা হলে জনগণনার ফর্ম কোথায় পূরণ করতে হবে? এই নিয়ে অনেকের মনেই ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই ভাবেন গ্রামের বাড়িতেও নাম তোলা হবে, আবার কর্মস্থলের শহরেও আলাদা করে তথ্য দিতে হবে। কিন্তু নিয়ম বলছে, একজন ব্যক্তির নাম জনগণনায় একটিমাত্র জায়গাতেই নাম নথিভুক্ত হবে। তিনি ঠিক যেখানে বাস্তবে বসবাস করছেন, সেখানেই নাম তোলা হবে।
ভারতে প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা করা হয়। দেশের জনসংখ্যা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বসবাসের ধরন থেকে শুরু করে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল কিংবা নাগরিক পরিষেবার পরিকল্পনা অনেকটাই নির্ভর করে এই তথ্যের উপর।
কাজ, পড়াশোনা বা ব্যবসার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে থাকেন। কেউ দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুতে চাকরি করেন, কেউ আবার অন্য রাজ্যে পড়াশোনা করছেন। সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের জনগণনার তথ্য কোথায় নথিভুক্ত হবে?
নিয়ম অনুযায়ী, জনগণনায় কোনও ব্যক্তির গণনা করা হয় তাঁর ‘সাধারণ বাসস্থান’-এর ভিত্তিতে। অর্থাৎ, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে যেখানে থাকছেন বা ভবিষ্যতেও যেখানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ঠিকানাকেই ধরা হয়। ফলে কেউ যদি চাকরির কারণে অন্য শহরে ভাড়া বাড়ি, পিজি বা হস্টেলে থাকেন, তা হলে সেখানেই তাঁর তথ্য নথিভুক্ত হবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও ব্যক্তি যদি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হন কিন্তু চাকরির কারণে কলকাতা বা বেঙ্গালুরুতে থাকেন, তা হলে জনগণনার সময় তাঁর নাম যেখানে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন; সেই শহরেই তোলা হবে। গ্রামের বাড়িতে তাঁর আলাদা করে নাম তোলা হবে না।
অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, গ্রামের বাড়ি এবং কর্মস্থল; দু’জায়গাতেই নাম নথিভুক্ত হতে পারে। বাস্তবে তা নয়। জনগণনায় একজন ব্যক্তির নাম একবারই গণনা করা হয়। কারণ, একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় থাকলে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব ভুল হয়ে যেতে পারে।
শুধু চাকরিজীবী নন, পড়ুয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। কোনও ছাত্র যদি অন্য শহরে হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন, তা হলে তাঁর তথ্য সেই হস্টেলের ঠিকানাতেই নথিভুক্ত হবে। একই ভাবে, ভিন্রাজ্যে কাজ করা শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও তাঁদের বর্তমান বাসস্থানকেই ধরা হয়।
জনগণনার সময় সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বয়স, শিক্ষা, পেশা, জন্মস্থান-সহ একাধিক তথ্য নেওয়া হয়। কোনও ব্যক্তি সেই সময় বাড়িতে না থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্য তাঁর তথ্য দিতে পারেন। বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনা শুধুমাত্র মানুষের সংখ্যা গণনার প্রক্রিয়া নয়। বরং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি এটি। কোন এলাকায় কত মানুষ থাকছেন, কোথায় কত স্কুল, হাসপাতাল বা পরিবহণের প্রয়োজন; সেই সিদ্ধান্ত নিতে এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই চাকরি বা পড়াশোনার কারণে অন্য শহরে থাকলে আলাদা করে চিন্তার কিছু নেই। জনগণনার নিয়ম অনুযায়ী, যেখানে আপনি বাস্তবে থাকছেন, সেখানেই আপনার তথ্য নথিভুক্ত করা হবে।